প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তর্ক-বিতর্ক ভোটচুরির অভিযোগের মাঝেই ফের উপনির্বাচনের (WB By Election 2026,) ময়দানে উড়ল বিজেপির পতাকা। রেজিনগর (Rejinagar) ও নন্দীগ্রামে (Nandigram) দারুণ রেকর্ড গড়লেন দুই বিজেপি প্রার্থী। সকাল থেকেই এগিয়ে ছিলেন দুই বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকার। অবশেষে ভোট গণনার পর জয়ী ঘোষণা করা হল দুইজনকে। উৎসবে মাতলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এদিকে নিজের এই রেকর্ড জয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানালেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ।
নন্দীগ্রামে করুণ অবস্থা ঋতব্রত-তৃণমূলের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬৫৬ রেকর্ড ভোট জয়ী হয়েছেন। এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তিনি ৩৭৭৮৭ ভোট পেয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সিপিএম প্রার্থী শান্তি গোপাল গিরি, তিনি ৫২৯৩ টি ভোট পেয়েছেন। এদিকে নন্দীগ্রামে ঋতব্রত-তৃণমূলের অবস্থা খুবই করুণ। মাত্র ৭১৯টি ভোট পেয়েছে তারা। তবে শুধু নন্দীগ্রামেই নয় রেজিনগরেও বিজেপির জয়জয়কার। সেখানেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭২ হাজার ৪৭২ ভোটে জয়ী হয়েছেন।
দ্বিতীয় স্থানে ঠেকলেন হুমায়ুন পুত্র
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রেজিনগরে জয়ী বিজেপি-র শাখারভ সরকার এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হুমায়ুন পুত্র তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ। তিনি ২৬ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়েছেন। পাশাপাশি ঋতব্রত-তৃণমূল পেয়েছে ১০৮৫টি ভোট এবং মমতা-তৃণমূল ২৯৪১টি ভোট পেয়েছে। তবে এই দুই দলের থেকে এগিয়ে আছে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি। তিনি পেয়েছেন ৩১৯১টি ভোট। নন্দীগ্রামের এই জয় নিয়ে হাসিরানী রথ বললেন, “৩৪ বছরে যা সিপিএম করতে পারেনি, ১৫ বছরে যা তৃণমূল করতে পারেনি, মাত্র পাঁচ মাসে শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন। তাই নন্দীগ্রামবাসী দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন ওঁকে।”
আরও পড়ুন: জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পুজো কমিটিকে অনুদান কেন? হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর এই দুর্দান্ত ফলাফলে আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। আনন্দ করতে দেখা গিয়েছে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজনকেও। চলছে খাওয়া-দাওয়া। অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপির জয় মানতে নারাজ কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যেমনটা বলেছিলেন ফলাফল ঠিক তেমনই হয়েছে। প্রতিটি নির্দিষ্ট বুথে বিজেপি ও কংগ্রেস কত ভোট পাবে, সে বিষয়ে আগেই হিসেব-নিকাশ করা হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ সবকিছুই আগে থেকে ঠিক করা ছিল। সুপরিকল্পিতভাবে কারচুপি হয়েছে।” তবে সেই সকল অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি।










