সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে দেওয়া হয়েছে আন্দোলনের ডাক। তবে যে বামেদের অপসারণ করে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের কুর্সিতে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), এবার বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে সেই সিপিএমের সঙ্গেই জোট বাঁধছেন মমতা? সম্প্রতি সিপিএমের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মমতা।
সিপিএমের সঙ্গে জোট বাঁধছেন মমতা?
৩৪ বছরের বাম দুর্গ ভেঙে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরাবরই সিপিএম তাঁর জাতশত্রু। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে একজোট হতে হবে ইন্ডিয়া জোটকে। সেই সূত্রেই এবার সিপিএমের সঙ্গে হাতে হাত মেলালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরপরই রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, উদ্ভব ঠাকরে সহ একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তৃণমূল নেত্রী। এমনকি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারের দাবির পাশাপাশি নির্বাচন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
এদিকে এই বিতর্কের মাঝে দেশের অন্যান্য বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি মমতাকে চিঠি লিখেছিলেন এমএ বেবি। তবে সেই চিঠির জবাবে পাল্টা চিঠিও দিয়েছেন মমতা। এমনকি ফোনে কথা হয়েছে বলেও খবর। আজ পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এক টেবিলে কোনও দিন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেননি মমতা। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গেলে সমস্ত বিরোধী দলকে এক হতে হবে, সেই সূত্রেই এবার সমস্ত বিরোধিতা ভুলে বেবির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ১৯ বছরেও কার্যকর হয়নি নির্দেশ, ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড সরাতে এবার কমিটি গঠন হাইকোর্টের
এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় এসআইআর-র পাশাপাশি অন্য বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এমনকি ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা আপ, ডিএমকে, বিজেডির মতো দলগুলিকে নিজেদের শিবিরে টানছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে এবার সরাসরি বামেদের সঙ্গে মমতা একজোট হবেন কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।










