আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) কার্ডের দৌলতে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি পেলেন জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) বৃদ্ধা। বিনামূল্যে হল জটিল নিউরো সার্জারি (Neuro Surgery)। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য আর বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, রাজ্য থেকেই বিনামূল্যে সেই চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া সম্ভব। ষাটোর্ধ্ব এই মহিলার অস্ত্রোপচার সেটাই প্রমাণ করে দেখালো।
ঠিক কী হয়েছিল এই বৃদ্ধার?
জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়ার বাসিন্দা মুন্নি রায়। প্রায় তিন বছর আগে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর চোট পান তিনি। সময়ের সঙ্গে তাঁর শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকে। হাড়ের উপর হাড় উঠে যাওয়ায় নার্ভে চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে হাঁটাচলা-সহ স্বাভাবিক নড়াচড়াতেও তাঁর যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছিল। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায়, চিকিৎসার খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।
এমন অসহায় পরিস্থিতিতে মাকে নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন টোটো-রিকশা চালক সঞ্জিত রায়। তবে বর্তমান সরকারের আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের সুযোগ পান তিনি। চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে জটিল এই সার্জারি। এই চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন অর্থোপেডিক সার্জেন ডাঃ কমলেশ বিশ্বাস এবং নিউরোসার্জন ডাঃ বিগান কামদার।
এর আগে যতবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছেন সঞ্জিত রায়, ততবারই তাকে শুনতে হয়েছে, এখানে এমন রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, তাই বাইরে যেতে হবে। সরকার বদল হতেই কপাল ফিরল এই গরিব পরিবারের। চিকিৎসকদের আশা, অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ফের স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও অসহায়তার পর বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন মুন্নি রায়। আর তাঁর এই অস্ত্রোপচারই এখনও অবধি আয়ুষ্মান কার্ডের পরিষেবার আওতায় হওয়া সবচেয়ে জটিল অস্ত্রোপচার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থাৎ বলাই যায়, নজির গড়েছে আয়ুষ্মান ভারত।










