“সরকারের সমালোচনা ও প্রতিবাদ করা গণতন্ত্রের অংশ” বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের

Published:

Calcutta High Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: করোনা মহামারী চলাকালীন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন করার জেরে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের ৬ জন চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। শনিবার বিচারপতি অনুজ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, শাসক পক্ষের কাছে আন্দোলন পছন্দসই না হলে শুধুমাত্র সেই কারণে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

কোন সূত্রে এই মামলা?

আসলে ২০২১ সালের ৫ আগস্ট এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগ-নীতির প্রতিবাদে সল্টলেকের ময়ূখ ভবন সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং বিকাশভবনের দিকে এগোন। সেই সময় পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর উত্তর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ, ওই প্রার্থীরা করোনা বিধি এবং ধারা ১৪৪-এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছেন, রাস্তাঘাট অবরোধ করেছেন এবং সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন তৃণা হালদার সহ ৬ জন চাকরিপ্রার্থী।

তাঁদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, তাঁরা সংবিধানের ১৯(১)(এ) এবং ১৯(১)(বি) ধারা অনুযায়ী তাঁদের বাক স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ জমায়েত হওয়ার মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। সেই মামলার ভিত্তিতে আদালত এফআইআর এবং এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া খারিজের নির্দেশ দেয়। শনিবার এই মামলার শুনানিতে আদালত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, সংবিধানের ১৯(১)(বি) ধারা নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত করার অধিকার দিয়েছে। তাই বিক্ষোভকারীদের যে কোনও বড় জমায়েতকে অসাংবিধানিক বলা যায় না।

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত জানিয়েছে, সরকারের সমালোচনা করা এবং বৈধ উপায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অপছন্দ হলেও তা অপরাধ নয়। আদালত উল্লেখ করেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪১ এবং ১৪৩ ধারা অনুযায়ী কোনও জমায়েতকে বেআইনি প্রমাণ করার মতো নির্দিষ্ট তথ্য ওই এফআইআর-এ ছিল না। এছাড়া ১৪৪ ধারার প্রজ্ঞাপন রেকর্ড না থাকা, পথ আটকানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকা এবং কোভিড আইন বা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইনের সঠিকভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই সূত্রেই এবার ওই মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

google button