পুজোয় VIP সংস্কৃতিতে ইতি, থাকবে না ভেদাভেদ, বড় ঘোষণা সমন্বয় সমিতির

Published:

Durga Puja 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পুজোয় (Durga Puja 2026) আর থাকছে না ভিআইপি পাস, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি রুখতে এবার নয়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপি সরকার। সম্প্রতি VIP পাস নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠায় ইডির স্ক্যানারে রয়েছেন তিনি। কিছুদিন আগেই তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। আর সেই দুর্নীতি যাতে পুনরায় না ঘটে তাই এবার দুর্গাপুজোর ভিআইপি (Durga Puja VIP Pass) পাস বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানাল দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি। বুধবার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

VIP পাস নিয়ে বিশেষ বার্তা সমন্বয় সমিতির

বুধবার প্রেস ক্লাবে ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে VIP পাস প্রসঙ্গে দুর্গাপুজোর সমন্বয় সমিতির উদ্যোক্তা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, “VIP পাস বা কার্ডের নামে কোটি কোটি টাকা তুলছেন অনেকে শুনতে পাই। যা অত্যন্ত জঘন্য বিষয়। তাই এই নিয়ে ভালোমন্দ কিছুই বলতে চাই না। যা বলার বাংলার মানুষ বলবেন। তবে এবার কোনও VIP পাস বা কোনও টিকিটের বিনিময়ে এক টাকারও লেনদেনের বন্দোবস্ত নেই। আমরা অনুরোধ জানিয়ে বলছি সকলকে সমানভাবে প্রতিমা দর্শনের সুবন্দোবস্ত করে দেওয়া হোক। কারণ, মায়ের কাছে ছোট-বড় কোনও ভেদাভেদ নেই।”

পুজো নিয়ে থাকবে না ভেদাভেদ

শুধু VIP পাস বন্ধ নিয়েই নয়, দুর্গাপুজোকে সর্বজনীন করে তুলতে বদ্ধপরিকর এই সরকার। তাই এই বিষয়ে রুদ্রনীল জানিয়েছেন, “গত কয়েক বছরে নাম করা নেতাদের পুজোকেই পুজোর তকমা দেওয়া হয়েছে। এ বার আর তা হবে না। অর্থাৎ ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে যারা পুজো করে এবং ১ লক্ষ টাকার বাজেটে যারা পুজো করে, তাদের মধ্যে আর কোনও ভেদ নেই। কারণ, সবই মায়ের পুজো। কলকাতা-জেলা, সমানভাবে পুজোয় গুরুত্ব পাবে।” বৈঠকে এদিন উপস্থিত সদস্যবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে একটা ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: “পলিটিক্সের উপর আমার ঘৃণা…” রাজনীতি ছাড়তে চান মদন মিত্র

দুর্গাপুজোর সমন্বয় সমিতির অন্যতম উপদেষ্টা প্রীতম সরকার এদিন পুজোর জন্য dpssinfo.com নামক এই ওয়েবসাইট চালু করেছেন। যার মাধ্যমে বহু পুজোর লাইভ স্ট্রিমিং ও আপডেট পাওয়া যাবে। বড় বাজেট বা ছোট বাজেটের পুজো, সব পুজোই মায়ের পুজো, তাই কলকাতা ও জেলার সমস্ত পুজোকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ জানান, ‘কারও হয়তো বৈচিগ্রামের পুজোটা দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তাঁর গ্রামের বাড়িটা এখন আর নেই। এখান থেকেই সেই পুজো দেখবেন। ৭০০-৮০০ পুজো ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়ে গিয়েছে। আরও যুক্ত হবে। বিশ্বময় যাতে আমরা বার্তা ছড়াতে পারি সেই প্রচেষ্টাই করা হবে।’

google button