‘গণতন্ত্র নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব’ রাষ্ট্রপতির কাছে বিশেষ আর্জি মমতার

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক অশান্তি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে একের পর এক বিরোধী দল। এদিকে CJP-র আন্দোলনে রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি দিল্লি। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রপতি ভবনে দ্রৌপদী মুর্মুর দরবারে উপস্থিত হল বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA Alliance) জোটের প্রতিনিধিদল। স্মারকলিপি জমা দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ আর্জি জানালেন মমতা (Mamata Banerjee) এবং রাহুল (Rahul Gandhi)।

রাষ্ট্রপতি ভবনে ইন্ডি জোট

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, শুক্রবার, রাষ্ট্রপতি ভবনে এসআইআর এবং ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে গিয়েছিলেন বিরোধীরা। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত ‘স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ায় বিপুল অনিয়মের আর্জি জানিয়ে ১৬টি বিরোধী দল মিলে মোট চার দফার একটি যৌথ স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

কী বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমরা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। তাঁর কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক মনোভাব দেখেছি। তিনি বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করবেন। তাঁর প্রমাণ প্রয়োজন। তিনি আমাদের প্রমাণ পাঠাতে বলেছেন। আমরাও জানিয়েছি, সেই প্রমাণ পাঠাব।” এদিন তিনি দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মমতার কথায়, “দেশের মানুষ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আপনি সংবিধানের রক্ষক। গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে আপনার যথাযথ ভূমিকা নেওয়া উচিত।”

আরও পড়ুন: বারাসতের স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে নামাজের ব্যবস্থা! জানেনই না প্রধান শিক্ষক

মমতার সুরেই কথা বললেন রাহুল

বৈঠকের শেষে এদিন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যে, “রাষ্ট্রপতির কাছে বিরোধী শিবির যে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে ধরেছিল, তা রাষ্ট্রপতি সরাসরি খারিজ করে দেননি। বরং এই গুরুতর দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।” এদিকে ইন্ডিয়া জোটের এহেন মন্তব্যে কটাক্ষের সুর ভেসে উঠেছে পদ্ম শিবিরের তরফে। রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী দাবি করেন, “সংবিধানে মানুষের আস্থা নষ্ট করা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোই বিরোধীদের মূল কৌশল। রাষ্ট্রপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ পদের গরিমা ক্ষুণ্ণ করে বিরোধী দলনেতা সীমা লঙ্ঘন করছে।”

google button