টিফিনের টাকা জমিয়ে শতাধিক দুঃস্থকে পুজোর পোশাক, বড় কীর্তি মালদার স্কুল পড়ুয়াদের

Published:

Malda School Students Initiative

অনন্যা সরকার, মালদহ: পুজোটা (Durga Puja) ওদের কাছে একা আনন্দ করার উৎসব নয়। ওরা চায় মা দুর্গার আগমনে সকলের মুখে হাসি ফুটে উঠুক। মালদহের ইংলিশ বাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গাবাগ এলাকার ললিতমোহন শ্যামমোহিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী (School Students) দুর্গাপুজোর আগে সমাজসেবার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। সারা বছর ধরে তারা তাদের টিফিনের টাকা থেকে সামান্য কিছু অর্থ জমিয়েছিল। কারও কাছে ছিল ৫০০ টাকা, আবার কেউ জমিয়েছে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এই জমানো টাকা দিয়ে খুদে শিক্ষার্থীরা শতাধিক আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য নতুন পোশাক কেনে, যাতে তারাও সবার মতো পুজোর আনন্দে শামিল হতে পারে।

মালদহের স্কুলের বাচ্চাদের অভিনব উদ্যোগ

সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিদ্যালয়ের সাফাইকর্মী, মিড-ডে মিল কর্মী ও তাঁদের পরিবার পরিজন এবং স্থানীয় এলাকার দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। মালদার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদও তাদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভাস্কর রায় ও সহকারী শিক্ষক পার্থ প্রধান বলেন যে, প্রকৃত শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় মানবতা সম্পর্কে জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বাস্তব জীবনে সেই মূল্যবোধের প্রয়োগই হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের কথায়, খুদে পড়ুয়ারা তাঁদের বুক গর্বে ভরিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। 

আরও পড়ুন: পুজোতেও ফেরা হবে না ঘরে, সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট

এই জনদরদী উদ্যোগে যে যতটা পেরেছে ততটাই হাসিমুখে দান করার চেষ্টা করেছে। নিজেদের সামান্য সঞ্চয় দিয়ে পুজোয় দুঃস্থ মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রচেষ্টাই প্রমাণ করে যে, মানবিকতার পাঠ কেবল পাঠ্যপুস্তকেই নয়, বরং এর ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমেই জীবন্ত হয়ে ওঠে।

google button