আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করাতে গেলে বহু মধ্যবিত্ত পরিবারকেই নিজেদের সঞ্চয়ের একটি বিরাট অংশ খরচ করে ফেলতে হয়। এর ফলস্বরূপ পরিবারের ওপর নেমে আসে এক ভীষণ আর্থিক সংকট। এই আর্থিক চাপ কমাতে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) চালু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা (Mukhyamantri Swasthya Bima Yojana)। এই প্রকল্পে যোগ্য পরিবারগুলি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদন করতে গেলে প্রথমেই কারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, কীভাবে নিজেদের তথ্য যাচাই করবেন এবং কোন কোন নথি প্রয়োজন, তা জেনে রাখা জরুরি।
বছরে কত টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা মিলবে?
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় পরিবারপিছু বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার কভারেজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সব হাসপাতালে এই সুবিধা পাওয়া যাবেনা। এই অর্থ কেবল নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২,০০০ ধরনের রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জটিল অস্ত্রোপচার, হৃদ্রোগের চিকিৎসা এবং হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো চিকিৎসাও এই তালিকায় রয়েছে। তবে কোন চিকিৎসায় কত টাকা পর্যন্ত সুবিধা মিলবে, তা সংশ্লিষ্ট প্যাকেজ ও সরকারি নিয়মের উপর নির্ভর করবে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন?
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। সূত্র অনুযায়ী, ২৮ জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাভুক্ত অথচ কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, এমন পরিবারগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের বার্ষিক আয়ের পরিমাণ এবং অন্য সরকারি স্বাস্থ্য বিমার আওতায় থাকার মতো বিষয় ভালোভাবে যাচাই করে তবেই সরকার আবেদন গ্রহণ করবে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা থেকে নিজের যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে কীভাবে করবেন পরিচয় যাচাই?
বাড়িতে বসে মোবাইলের সাহায্যে পরিচয় যাচাই করার জন্য ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির অফিসিয়াল “Beneficiary Portal” ব্যবহার করা যায়। প্রথমে “beneficiary.nha.gov.in” ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করে ক্যাপচা পূরণ এবং OTP-র মাধ্যমে নম্বর যাচাই করতে হবে। এরপর স্ক্রিনে দেখানো নির্দেশ অনুসরণ করে রাজ্য, জেলা এবং উপভোক্তার পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন করতে হবে।
পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ড বা পোর্টালে উপলব্ধ অন্য পরিচয় সংক্রান্ত বিকল্প ব্যবহার করতে হতে পারে। উপভোক্তার তথ্য দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট নামের পাশে থাকা ‘Action’ অপশন থেকে KYC অপশনটি বেছে নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে পোর্টালে যে তথ্য বা নথি চাওয়া হবে, সেগুলি দিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে হবে।
মোবাইল থেকে কাজটি করতে চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে সরকারি আয়ুষ্মান অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করেও পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
আবেদন করতে কী কী নথি লাগবে?
পরিচয় যাচাই এবং পরিবারের তথ্য মিলিয়ে দেখার জন্য আধার কার্ড, ডিজিটাল রেশন কার্ড বা খাদ্যসাথীর নথি এবং পরিবারের আয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা উচিত। পরিবারের সদস্যদের নাম ও পরিচয়পত্রের বিবরণে অমিল থাকলে যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে। কোনও নথিতে ভুল থাকলে আগে তা সংশোধন করা দরকার। নির্দিষ্ট আবেদনপদ্ধতিতে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী তা জমা দিতে হবে।
অনলাইনে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
অনলাইনে নিজের তথ্য খুঁজে না পেলে বা KYC-র বিকল্প দেখতে না পেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনিক ক্যাম্প অথবা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পরেও নিজের যোগ্যতা বা আবেদনের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো।
আরও পড়ুন: ষষ্ঠী থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে, একাধিক জেলায় সতর্কতা, আগামীকালের আবহাওয়া
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা চিকিৎসার খরচ সামলাতে যোগ্য পরিবারগুলিকে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে। তাই কার্ড পাওয়ার তাড়াহুড়োয় ভুল তথ্য দেওয়া বা অপরিচিত কাউকে OTP জানানোর মতন ভুল করবেন না। আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া নির্দেশ ভালোভাবে পড়ে নিন। আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা সাইবার ক্যাফের সাহায্য নিন।










