অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাতে মানুষ যেভাবে শুয়ে ঘুমায় (Sleeping Position) তা শুধু দিনের ক্লান্তি দূর করার একটি উপায়ই নয়, তার সাথে এটি মস্তিষ্কের গভীর অংশের সাথেও সংযুক্ত। ঠিক যেমন হাঁটাচলা, কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি বা কাজ করার ধরণে ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়, তেমনি রাতে আমরা যে ভঙ্গিতে ঘুমাই, সেটাও আমাদের স্বভাব (Personality Traits) সম্পর্কে অনেক গোপন তথ্য প্রকাশ করতে পারে। মাইন্ড অ্যান্ড বডি এক্সপার্টরা বলছেন, যখন আমরা ঘুমাই, তখন আমাদের মন সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে। ফলে, আমাদের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই ঘুমের ভঙ্গিটাই বেছে নেয়, যা আমদের সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ মনে হয়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে বিভিন্ন ঘুমের ভঙ্গি মানুষের ব্যক্তিত্ব সর্ম্পকে কী কী গোপন তথ্য প্রকাশ করে।
উপুড় হয়ে ঘুমানো (Free Fall Position)
যদি রাতে কেউ উপুড় হয়ে ঘুমায়, হাত দুটো থাকে বালিশের কাছে, আর মুখ একদিকে ফেরানো থাকে, তবে এই ভঙ্গিটিকে বলা হয় ফ্রি ফল পজিশন। মাইন্ড ও বডি এক্সপার্টদের মতে, যারা এই ভঙ্গিতে ঘুমান তারা স্পষ্টভাষী হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও খুব উদারমনাও হয়ে থাকেন। এই সমস্ত ব্যক্তিরা নিজেদের স্বাধীনতাকে খুব মূল্য দেন এবং কোনও চাপের মধ্যে কাজ করতে পছন্দ করেন না। তবে, বাইরে থেকে চিন্তামুক্ত মনে হলেও, এরা খুবই সংবেদনশীল হন। কেউ তাদের সম্পর্কে কোনও খারাপ কথা বললে বা হঠাৎ কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারা অল্পেই বিচলিত হয়ে পড়েন। এই সমস্ত মানুষরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে কখনও কখনও তাদের হটকারী সিদ্ধান্ত নিজেদের জন্যই সমস্যা ডেকে আনে।
একপাশে কাত হয়ে বা শিশুর মতো ঘুমানো (Fetal Position)
রাতে পা ভাঁজ করে বুকের কাছে এনে একপাশে কাত হয়ে ঘুমানোর ভঙ্গিটিকে বলে ভ্রূণীয় ভঙ্গি বা ফিটাল পজিশন। বেশিরভাগ মানুষই এই ভঙ্গিমায় ঘুমাতে পছন্দ করেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যারা এভাবে ঘুমান, বাইরে থেকে তাদের কঠোর, স্বল্পভাষী বা লাজুক মনে হতে পারে, কিন্তু তারা আসলে গভীরভাবে আবেগপ্রবণ ও কোমল হৃদয়ের হন। নতুন মানুষদের সাথে মিশতে এদের কিছুটা সময় লাগে, তবে একবার মিশে গেলে এরা অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন। ফিটাল পজিশনে ঘুমানো মানুষরা নিজেদের চারপাশে একটি নিরাপদ পরিবেশ পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন: এই ৪ টোটকাতেই বাড়ি থেকে ‘বাপ বাপ’ বলে পালাবে আরশোলা
চিৎ হয়ে ঘুমানো (Soldier Position)
যদি রাতে কেউ পিঠ সোজা করে হাত দুটি শরীরের সাথে সেঁটে ঘুমান, তবে এই ভঙ্গিটিকে বলে সোলজার পজিশন। যারা এই ভঙ্গিতে ঘুমাতে পছন্দ করেন তারা নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেন। এভাবে যারা ঘুমান তারা প্রায়শই স্বল্পভাষী, গম্ভীর ও শান্ত স্বভাবের হন। তাদের নিজেদের ও অপরের কাছ থেকে উচ্চপ্রত্যাশা থাকে। এই সমস্ত ব্যক্তিদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল এরা অহেতুক কথাবার্তা বলে বা অলস সময় কাটিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করেন না। তাদের লক্ষ্য সবসময় স্থির থাকে এবং লক্ষ্যের প্রতি তারা সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। এই ব্যক্তিদের নেতৃত্বদান ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকে।
পাশ ফিরে হাত প্রসারিত করে ঘুমানো (Yearner Position)
যদি কেউ পাশ ফিরে শুয়ে হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে ঘুমান, তবে একে ইয়ার্নার পজিশন বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা এভাবে ঘুমান তারা সবসময় নতুন কোনও জিনিস ও ধারণা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী থাকেন। তারা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করেন না। তারা কিছুটা সন্দিগ্ধ থাকেন এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাবধানে চিন্তা করেন ও সময় নেন। কিন্তু একবার কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অটল থাকেন, সেখান থেকে পিছু হটেন না।
আরও পড়ুন: ১০ হাজার টাকা বকেয়া! মালিককে শিক্ষা দিতে মার্কেটে আগুন লাগালেন কর্মী, ক্ষতি ২৪ কোটির
সোজা হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমানো (Starfish Position)
যদি কোনও ব্যক্তি রাতে চিৎ হয়ে শুয়ে নিজের হাত মাথার কাছে বা বালিশের ওপর প্রসারিত করে ঘুমান, তবে একে স্টারফিশ পজিশন বলা হয়। মাইন্ড অ্যান্ড বডি এক্সপার্টরা বলছেন, যারা এই ভঙ্গি পছন্দ করেন তারা পরোপকারী হন এবং অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। বন্ধু, পরিবার বা অচেনা ব্যক্তি – যেই হোক না কেন, যদি কারও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তারাই প্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এরা নিজের ওপর কোনও প্রচারের আলো বা লোক দেখানো পছন্দ করেন না। খুব সহজ-সরল ও বাস্তববাদী হন এই সমস্ত ব্যক্তিরা। অন্য মানুষরা তাদের সাথে কথা বলতে ও তাদের সমস্যা ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন, কারণ তারা মনোযোগ দিয়ে ও সহানুভূতির সাথে শুনতে পারেন।










