মহিলা থেকে যুবক, চাকরিপ্রার্থী, কৃষক! বিজেপির সংকল্প পত্রে একগুচ্ছ ঘোষণা, দেখুন লিস্ট

Published:

BJP Manifesto 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর কয়েক দিন পরেই রাজ্যে দুই দফায় শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। জেলায় জেলায় তাই জোরকদমে চলছে ভোট প্রচার। এমতাবস্থায় আজ, শুক্রবার বঙ্গ বিজেপির ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’ (BJP Manifesto 2026) প্রকাশ করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আর সেই তালিকায় রয়েছে মহিলা থেকে শুরু সরকারী কর্মী এবং বেকার যুবক যুবতীদের জন্য একগুচ্ছ নয়া চমক। শুধু তাই নয়, সমাজে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে ১০ হাজার পরামর্শদাতার কথা অনুযায়ী বিজেপির সংকল্পত্র তৈরি করা হয়েছে।

একনজরে বিজেপির সংকল্প সূচী

১/ অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রয়োগ। ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট নীতির মাধ্যমে বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বার করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সুরক্ষা কথা মাথায় রেখে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২/ গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়ের খতিয়ান তুলে ধরতে একটি বিশেষ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। যেখানে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতাদের কুকর্ম এবং দুর্নীতির একের পর এক ঘটনা তুলে ধরা হবে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩/ শাসকদল এতদিন কাটমানি সংস্কৃতির ভয়াবহতা হয়ে চলেছিল রাজ্য জুড়ে। এবার সেই কাটমানি সংস্কৃতি এবং সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল করা হবে।

৪/ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য কেন্দ্রীয়হারে মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করা হবে। এবং ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী বেতন পাবেন সরকারি কর্মীরা।

৫/ রাজ্যে বেকারত্ব ঘোচাতে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমাসে ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে এই টাকা পাওয়া যাবে।

৬/ সমাজে মহিলাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হবে বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

৭/ সমাজে মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়াও মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনা শুল্ক পরিবহণ নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার।

৮/ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া, যাঁরা দুর্নীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে।

৯/ ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সরকারি সাহায্য এবং কৃষকদের জন্য ফসলের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করা হবে। জানা গিয়েছে আলুচাষিদের জন্য কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি প্রতি ব্লকে ব্লকে আলু ও আমের জন্য কোল্ডস্টোরেজ রাখা হবে।

১০/ রাজোর প্রতিটি মৎস্যজীবীকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র অধীনে নথিভুক্ত করা হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পশ্চিমবঙ্গকে একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম প্রধান মাছ রপ্তানিকারক রাজ্যে উন্নীত করা হবে। সোনার বাংলা নির্মাণে বাংলা মৎস্যজীবী, কৃষক থেকে সবস্তরের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বিজেপি সরকারের লক্ষ্য।

১১/ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে এবং কয়লা ও বালিপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। পাশাপাশি গরুপাচার রোধে বিশেষ বন্দোবস্ত করা হবে।

১২/ পুরনো চা বাগানগুলির উন্নয়ন, দার্জিলিং চা-এর বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং এবং পাটশিল্পের আধুনিকীকরণ করা হবে। এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য আগামী ১ বছরের মধ্যে চা বাগানের উন্নতি করা হবে। দার্জিলিংয়ে চা-কে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে বোর্ড গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের ৬০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ৩০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

১৩/ কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হবে। থিয়েটারের জন‍্য আধুনিক ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে। থিয়েটারের বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে এক লক্ষ করা হবে।

১৪/ আয়ুষ্মান ভারত যোজনার বাস্তবায়নসহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প চালু করা হবে রাজ্যে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিডি টিকাকরণ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা চালু করা হবে। উত্তরবঙ্গে একটি নতুন ‘এইমস’ নির্মাণ করা হবে এবং উত্তরবঙ্গে নতুন আইআইটি ও আইআইএম ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে। গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসাব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: মহিলা, বেকারদের মাসে ৩০০০ টাকা, উত্তরবঙ্গে AIIMS, সঙ্কল্পপত্রে একগুচ্ছ ঘোষণা বিজেপির

১৫/ বাংলায় একটি বিশেষ ‘বন্দেমাতরম সংগ্রহশালা’ তৈরি করা হবে।

১৬/ ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন বলবৎ করা হবে দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হবে। পর্যটন শিল্পে জোর দেওয়া হবে। কলকাতাকে সারা বিশ্বের সামনে ‘লিভিং সিটি’ হিসাবে প্রকাশ করা হবে।