‘প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, তদন্তে বাধা! থাপ্পড় মেরেছে সুপ্রিম কোর্ট’ মমতাকে নিশানা মোদীর

Published:

Narendra Modi On TMC

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাংলার মাটি আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব। রবিবার, ঠাকুরনগরের পাশাপাশি হুগলির হরিপালে বিজেপির হয়ে প্রচার করেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi On TMC)। আর এই দুই জায়গা থেকেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে একেবারে একহাত নেন প্রধানমন্ত্রী। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে একাধিক ইস্যু নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা থেকে আইপ্যাক মামলা, তৃণমূলকে তুলোধোনা নরেন্দ্র মোদির!

আজ দুই জায়গার সভা থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে হওয়া নিয়োগ দুর্নীতি থেকে কয়লা পাচারের মতো একাধিক সমস্যাকে সামনে এনে তৃণমূলকে একহাত নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দপ্তর এখন আর নবান্ন নয়, বরং বাংলার সরকার আদতে পরিচালনা করে তৃণমূলের গুন্ডা এবং মস্তানরা।

শুধু তাই নয়, এদিন আইপ্যাক মামলা নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন মোদি। এদিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকা স্মরণ করিয়ে তৃণমূলকে উদ্দেশ্য করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে এই সরকার বারবার বাধা দেয়। তবে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূল সরকারের গালে সজোরে থাপ্পড় মেরেছে। এই সরকার যেভাবে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে এবং তদন্তে বাধা দেয়, সেই ঘটনাকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত লোকতন্ত্রের উপর ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া যাবে না।”

অবশ্যই পড়ুন: বিশ্বের লক্ষ লক্ষ প্রতিযোগী হারিয়ে সর্বসেরা বাঙালি, ভারতের নাম উজ্জ্বল করল মেমারির ছেলে

এদিন হরিপালে পৌঁছে নিজের দলের হয়ে ঝোড়ো প্রচার করার সাথে সাথে বাংলার শাসক দল তৃণমূলকে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ রাজ্যে বর্তমানে যা অবস্থা তাতে সাধারণ মানুষ বিপদে। কোনও ক্ষেত্রেই সরকারের সাহায্য পায় না তারা! তাই বাধ্য হয়ে বারবার আদালতের দারস্ত হতে হয়। কয়লা পাচার থেকে শুরু করে গরু পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি কোনও ক্ষেত্রেই তৃণমূল প্রশাসন সঠিক তদন্ত করেনি। যার কারণে প্রত্যেকবার আদালতকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এদিন তৃণমূলের আমলে ঘটে চলা নানান দুঃসহ ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বে বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় হিংসার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষে নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই সরকার যা করেছে তাতে সাধারণ মানুষ আর তৃণমূলের উপর আস্থা রাখতে পারেছেনা! এদের গ্রহণযোগ্যতা এখন শূন্যতে নেমে এসেছে!