বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: উত্তম কুমারের ছবির গানের লাইন ধার করে নিয়ে বলতে হয়, “এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো..”। সত্যিই কি এদেশে এমন কোনও পথ (Road) রয়েছে যার শুরুটা থাকলেও শেষ নেই (Road To Infinity)। হ্যাঁ, দেশের বুকেই তৈরি হয়েছে এমন এক রাস্তা যার শেষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এক কথায়, অন্তবিহীন পথ। কখনও গভীর সমুদ্র তো কখনও আবার সাদা মরুভূমির বুক চিরে চলবে এই রাস্তা। কিন্তু শেষ কোথায়?
ভারতেই রয়েছে রোড টু ইনফিনিটি
সংবাদ সংস্থা IANS এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাতের কচ্ছের রনের উপর দিয়ে তৈরি হয়েছে এই অভিনব পথ। 22 কিলোমিটারের এই পথ আর কিছুদিনের মধ্যেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। বিগত বছরগুলিতে এমন রাস্তারই দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবার সেই দাবিতেই পড়তে চলেছে সিলমোহর।
গুজরাতে যে নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে তাতে উপকৃত হবেন 12টি গ্রামের মানুষ। এক কথায়, এই গ্রামগুলির সাধারণ মানুষ সহজেই একে অপরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। তাছাড়াও পর্যটকরাও এই পথ ধরেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে যেতে পারবেন সহজেই। তাছাড়াও এই পথ দিয়ে হেঁটে গেলেই দেখা যাবে হনুমান বেট। যেখানে রয়েছে স্বয়ং রনেশ্বর হনুমান মন্দির।
বলাই বাহুল্য, এতদিন এই হনুমান মন্দিরে পৌঁছতে হলে একেবারে কাল ঘাম ছুটে যেতে ভক্তদের। দুর্গম এলাকা দিয়ে এই মন্দিরে পৌঁছতে হতো আমজনতাকে। তবে রোড টু ইনফিনিটি বা নতুন রাস্তা তৈরির ফলে সহজেই গাড়িতে বা অন্য উপায়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে এই মন্দিরে। এখানেই শেষ নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্যেও এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কেননা এই পথ ধরেই পৌঁছে যাওয়া যায় সীমান্তে।
অবশ্যই পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল
পর্যটকদের ভিড় বাড়বে
গুজরাতে তৈরি হওয়া নতুন রাস্তা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এর অন্যতম কারণ এই পথ ধরেই পৌঁছে যাওয়া যাবে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ফ্লেমিঙ্গো সিটিতে। এশিয়ার সর্ববৃহৎ ফ্লেমিঙ্গো পাখির প্রজনন ক্ষেত্র এটি। শীত হলেই এখানে নানান প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পাখি এসে জড়ো হয়। এতদিন এই অংশে পৌঁছনো এতটাও সহজ ছিল না। তবে নতুন রাস্তা তৈরি হওয়ায় এবার পর্যটকদের পরিশ্রম এবং টাকা দুই বাঁচবে। আসলে ভারতের প্রথম আশ্চর্য রাস্তাটি সহজে শেষ করা যায় না বলেই এই রাস্তার নাম দেওয়া হচ্ছে অন্তবিহীন পথ।












