৪০টি পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা কেন্দ্রের

Published:

Government Of India,

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Iran-Israel War) জেরে গোটা বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এই সংকটের আঁচ যাতে ভারতের শিল্পক্ষেত্রে না পড়ে, তার জন্য এবার বিরাট ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার (Government of India)। হ্যাঁ, দেশের শিল্প উৎপাদন সচল রাখার জন্য এবং কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ৪০টির বেশি রাসায়নিক এবং পেট্রোকেমিকাল পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার (Withdrawal of Duties) করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের এই বিশেষ ছাড় আজ অর্থাৎ ২ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হচ্ছে এবং আগামী ৩০ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বড়সড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের

আসলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে বিশ্ব বাজারে রাসায়নিক দ্রব্যের যোগান দিনের পর দিন কমছে আর পাল্লা দিয়ে দামও বাড়ছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারের বৃহৎ অংশ এখান থেকে আমদানি করে থাকে। শুল্ক যদি না কমে, তাহলে কাঁচামালের দাম বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই কারণে সাধারণ পণ্যের দামও একেবারে আকাশ ছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে শিল্পক্ষেত্রে যাতে কাঁচামালের আকাল তৈরি না হয় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া থমকে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই মোদী সরকার বড়সড় ঘোষণা করল।

বলাবাহুল্য, সরকার এবার মোট ৪০টির বেশি প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের উপর থেকে শুল্ক তুলে নিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রাসায়নিক। যেমন মিথানল, অ্যাসিটিক অ্যাসিড, ফেনল, অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া, টলুইন, আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, ডাইক্লোরোমেথেন এবং ভিনাইল ক্লোরাইড। এদিকে প্লাস্টিক ও পলিমারের মধ্যে রয়েছে পিভিসি, পলিথিন টেরেফথালেট (PET), পলিপ্রোপিলিন, পলিস্টাইরিন, এবিএসএবং পলি কার্বনেট। এছাড়াও পিটিএ এবং স্টাইরিনের উপরে শুল্ক কমানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলপাইগুড়িতে ট্রেন থেকে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করল RPF

উপকৃত হবে শিল্পখাত

বড় বিষয়, কাঁচামালের দাম কমলে সরাসরি সুবিধা হবে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের। যার মধ্যে সবথেকে বেশি লাভজনক হবে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং খাত। বিশেষ করে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে শিল্পজাত পণ্যের প্যাকেজিং খরচ কমবে। দ্বিতীয়ত রয়েছে টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্প। এক্ষেত্রে পলিয়েস্টার বা সিনথেটিক সুতো তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের দাম কমলে পোশাকের উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমবে। তৃতীয়ত, ফার্মাসিউটিক্যাল বা ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল বা এপিআই তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রুব্যের শুল্ক কমলে ওষুধের দাম অনেকটাই কমতে পারে। এছাড়া অটো মোবাইল এবং রাসায়নিক শিল্পখাতেও অনেকটাই সুরহা পাবে ব্যবসায়ীরা।

google button