সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সীমান্ত রাজ্য পাঞ্জাবের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন। শনিবার সকালে কর্তব্যরত অবস্থায় ডিউটিতে যাওয়ার সময় অমৃতসরের (Amritsar) কাছে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হলেন পাঞ্জাব পুলিশের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (Punjab Police Murder)। আর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড পাঞ্জাবে
সূত্রের খবর, নিহত পুলিশ অফিসারের নাম জোগা সিং (Joga Singh)। তিনি গুরুদাসপুর জেলায় ঘানিয়ে কে বাঙ্গার এলাকার বাসিন্দা, এবং অমৃতসর ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকাল আনুমানিক পৌনে সাতটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। অমৃতসর গ্রামীণ গ্রামীণের মজিঠা থানার অন্তর্গত হামজা গ্রামের কাছে বাতলা-মজিঠা রোডের উপরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশ জানিয়েছে যে, এএসআই জোগা সিং নিজের টু হুইলারে চরে অমৃতসর শহরে নিজের ডিউটির উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিলেন। আর সেই সময়ই ওঁত পেতে বসে থাকা একদল বন্দুকবাজ আচমকা তাঁর উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। একাধিক গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে অমৃতসর গ্রামীণের এসএসপি সুহেল মীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খবর পাওয়া মাত্রই বিশাল পুলিশ বাহিনী আর ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্ত করে পুলিশ জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা, সুপরিকল্পিত খুনের চক্রান্ত নাকি নিছক কোনও রাস্তাঘাটে তাৎক্ষণিক বচসার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে গোটা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার, নির্দেশ নবান্নর
তবে দিনদুপুরে একজন পুলিশ অফিসারের এভাবে নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে সুর ছড়িয়েছে বিরোধী দলগুলি। শিরোমনি অকালি দলের নেতা বিক্রমজিৎ সিং মজিঠিয়া এক বিবৃতি দিয়ে পাঞ্জাবের বর্তমান সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ভারত–পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় একজন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে এরকমভাবে প্রকাশ্যে খুন করা পাঞ্জাবের ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলার সবথেকে বড় উদাহরণ। আর যেখানে খোদ থানার ভেতরে বা বাইরেই পুলিশ কর্মীরা নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?










