প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ‘রূপশ্রী’ (Rupashree) প্রকল্পের আবেদন করতে গিয়েই ফাঁস তথ্য! যাচাইকরণ করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়লেন আবেদনকারী। জানা গিয়েছে, বিধাননগরে (Bidhannagar Municipal Corporation) ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের জন্য আবেদনকারীর বাড়ি ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে দেখা যায় তাঁর বাড়িতে গাড়ি, এসি, স্মার্ট টিভি রয়েছে। শেষে প্রকাশ্যে সত্যটা বেরিয়ে আসতেই কর্মীদের সামনে হাত জোর করে ক্ষমা চায় তরুণী। বাতিল করা হয় আবেদনপত্র।
তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এল তথ্য
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কৈখালি এলাকায় এক তরুণী রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি নিজেই সল্টলেকে গিয়ে ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের বিভাগে আবেদন করেছিলেন। আবেদনের সময় কর্মীদের কাছে কাতর অনুরোধ করে ওই তরুণী বলেছিলেন, “বাবা গাড়িচালক। সামান্য রোজগার। দয়া করে দেখবেন স্যার, আমরা খুবই গরিব। যেন অনুদানটা পাই।” এরপরই আবেদন গ্রহণের পরই শুরু হয় তদন্ত। কাগজপত্র খতিয়ে দেখতেই এই সমীক্ষা, আর তাতেই চোখ কপালে ওঠে বিভাগীয় কর্মীদের।
বাতিল আবেদনপত্র
পুরসভার তরফ থেকে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে কর্মীরা জানতে পারেন, আবেদনকারী ওই তরুণীর বাবা গাড়িচালক নন। উল্টে তিনি আসলে দু’টি গাড়ির মালিক। এছাড়াও, ওই তরুণীর বাড়িতে এসি, স্মার্ট টিভি, মডিউলার কিচেন ইত্যাদি নানা বিলাসবহুল সরঞ্জাম দেখে অবাক কর্মীরা। এই ব্যাপারে তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তিনি রীতিমত ঘাবড়ানো অবস্থায় জানান, “ ভুল হয়ে গিয়েছে স্যার। আর এমন হবে না।” শেষে ওই তরুণীর আবেদন বাতিল করে দেয় দপ্তর। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের কাজ না হয়, সে ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে তাঁকে। যদিও এই ঘটনা প্রথম নয়, এর আগেও এমন ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: খাস কলকাতায় বাতিস্তম্ভের লাইট খুলে পড়ল মাথায়, মৃত্যু ৬ বছরের শিশুর
প্রসঙ্গত, গরিব পরিবারের তরুণীদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাইডলাইন অনুযায়ী, যেসব পরিবারের আয় বছরে দেড় লক্ষ টাকার কম, সেই সব পরিবারের তরুণীরাই প্রথম বিয়ের জন্য ‘রূপশ্রী’র জন্য আবেদন করতে পারেন। এই প্রকল্পে বিয়ের জন্য এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। ওই আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মীরা আবেদনপত্র খতিয়ে দেখেন। যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।










