প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ‘জনতার দরবার’-এর (Janatar Darbar) কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রতি সোমবার সকালে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আজও শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) সেই কর্মসূচিতে ছিলেন। সেখানে একাধিক অভিযোগের মধ্যেই এবার জমি দিয়েও ফ্ল্যাট না-পাওয়ার অভিযোগ জানান ভবানীপুরের ৮১ বছরের বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়। ওঠে সোনা পাপ্পুর নাম।
উঠে এল সোনা পাপ্পুর নাম
রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, সোমবার সকালে জনতার দরবার কর্মসূচিতে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে মুখোমুখি হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব ঘোষণা মতোই সপ্তাহের প্রথম দিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছিল ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজেদের একগুচ্ছ অভাব-অভিযোগ ও দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নানা পেশার মানুষ। আর সেই অভিযোগের মধ্যে উঠে এল সোনা পাপ্পুর নাম, জমি দিয়েও ফ্ল্যাট না পাওয়ার দাবি তুললেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ। তাঁর অভিযোগ, জয় কামদার ও সোনা পাপ্পু নামের দুই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে চরম জালিয়াতি করেছেন।
সমস্যার সমাধানের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
বৃদ্ধি জানিয়েছেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তি প্রোমোটিংয়ের জন্য জয় কামদারের হাতে তুলে দিলেও, বহুতল তৈরি হওয়ার পর তাঁকে কোনও ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি। উল্টে গ্রেফতার হওয়ার আগে জয় তাঁর কাছে আরও ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। বর্তমানে বৃদ্ধ স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি হলেন তিনি। প্রবীর বাবু বলেন, “আশ্বস্ত হলাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সমস্যার সমাধান করবেন।” উল্লেখ্য, গত সোমবার দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। আদালতে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি, সম্পত্তি হস্তগত করতেন সোনা পাপ্পু। এই কাজে নাম জড়িয়েছে কলকাতার পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাস।
আরও পড়ুন: সরকারি হাসপাতালে দালালরাজ আর নয়! চালু বিশেষ আইকার্ড ব্যবস্থা
প্রসঙ্গত, জনতার দরবারের কর্মসূচিতে আজ সকালে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের মোট ১৫টি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। পাশাপাশি স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলার জেরে চাকরি হারানো ২৬ হাজার ‘বঞ্চিত’ শিক্ষক-শিক্ষিকার পক্ষে এদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁদের প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস। যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত চাকরি ফেরানোর আর্জি জানান তাঁরা। ভিড় এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল যে পরিস্থিতি সামলাতে নিরাপত্তারক্ষীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।










