প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের আরও এক আলু চাষির আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেল গোঘাটের (Goghat) মথুরা এলাকায় (Potato Farmer Commits Suicide)। পরিবারের সদস্যের অনুপস্থিতে গলায় দড়ি বেঁধে ফাঁস দেন বছর ৩৩ এর ভাগচাষি বাপন সুর। দেনার দায়ে চরম হতাশায় পড়ে ঘটে গেল এক ভয়ংকর বিপদ। কয়েক বছর ধরেই আলু চাষ করে আসছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন ভালো ফলন হলে এবং দাম পেলে আলু বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু তা আর হল না, কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, রাজ্য সরকারের তরফে আলুর অভাবী বিক্রি ঠেকাতে সহায়ক মূল্যে আলু কিনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনও এই এলাকায় আলু কেনা শুরু হয়নি। ফলে ঋণের টাকা কী ভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন ভাগচাষি বাপন সুর। এই নিয়ে পরিবারও খুব চিন্তায় ছিল। বাড়িতেও প্রায় অশান্তি হত বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তির আলুর ব্যবসাও ছিল। দিন দিন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হতাশার মুখে পড়ে গত শনিবার, পরিবারের লোকজন পাশের পাড়ায় যখন অনুষ্ঠানের জন্য গিয়েছিলেন, সেই সময় দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন তিনি।
তদন্তে নেমেছে গোঘাট থানার পুলিশ
পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, বাপন সুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রথম দেখেছিল তাঁর ৫ বছরের সন্তান। বাবাকে এই অবস্থায় দেখে চিৎকার করায় ছুটে এসেছিল বাড়ির সদস্যরা, সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। শোকাহত গোটা পরিবার। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে গোঘাট থানার পুলিশ। মাঠে এখনও মৃত ভাগচাষী বাপন সুরের চাষ করা আলু পরে রয়েছে। জানা গিয়েছে বাপন সুর নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জড়িত। সরকারের তরফে এই পরিবারে ক্ষতিপূরণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: কটকের হাসপাতালে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড, মর্মান্তিক মৃত্যু ১০ রোগীর
কয়েকদিন আগেই একই ঘটনা ঘটেছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের রাঙামাটি গ্রামে। স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে, ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন রাখাল আড়ি নামে এক ভাগ চাষি। কিন্তু ফলন হলেও পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ার আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। পরে গত বৃহস্পতিবার মৃত ওই আলু চাষির পরিবারকে নগদ দু’লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য করেন তৃণমুল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই টাকা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সূর্যকান্ত দোলই ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমুল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী মৃত চাষির স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।












