দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুনে ঝলসে মৃত্যু অন্তুত ২১ জনের, আহত বহু

Published:

Delhi Hotel Fire

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রাজধানীতে। মালব্য নগর এলাকার এক ছয়তলা হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে খবর। লেমন গ্রীন নামের ওই হোটেলে লাগা বিধ্বংসী আগুনে (Delhi Hotel Fire) মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta)। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা, আর আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দিল্লিতে

সূত্রের খবর, বুধবার সকালে দিল্লীর অভিজাত এলাকা মালব্য নগর হাউস রানির ওই হোটেলে হঠাৎ করে আগুন লাগে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা ভবন একেবারে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং ভেতরে প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। এমনকি জানলা ও বারান্দার দিকেও ছুঁতে যান তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে অনেকে লাফিয়ে পড়ে কোনও ক্রমে বেঁচে যান। এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। আহত বহু। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লির ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, ডিডিএম এবং অ্যাম্বুলেন্সের এক দল। বহুতল ভবনটি ভেঙে মই ব্যবহার করে কোনও মতে মানুষজনকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। এক্স মাধ্যমে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা লেখেন, “মালব্য নগরের এই অগ্নিকাণ্ড প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। দুর্গত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। আর দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে, এবং তাঁদের চিকিৎসা করতে বন্ধপরিকর।

আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য কড়াকড়ি, আসছে নয়া নিয়ম! জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল

প্রসঙ্গত, যে হোটেলটিতে আগুন লেগেছে সেখানে বাংলাদেশ এবং আফ্রিকার বেশ কিছু নাগরিক সপরিবারে ছিলেন বলে খবর। আসলে মালব্য নগর এলাকার কাছাকাছি নামি দামি বেসরকারি হাসপাতাল থাকার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিদিন বিদেশীরা ভারতে আসেন। আর তারা মূলত এই ধরনের হোটেলগুলিতেই সাময়িক ভাবে থাকেন। কিন্তু এই অগ্নিকাণ্ডে সেই সমস্ত মেডিকেল টুরিস্ট ও বিদেশী নাগরিকদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। আর আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তাও তদন্ত করা হচ্ছে।