রুশ তেলের বিকল্প খুঁজে পেল ভারত! এই দেশের সাথে বিরাট চুক্তি নয়াদিল্লির

Published:

India-Venezuela Relation

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) জেরে হরমুজ প্রণালিতে তৈরি হওয়া সংকটের আবহে এবার বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে ভারতের জ্বালানি মানচিত্রে। রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এড়াতে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার (India–Venezuela Relations) দিকে পা বাড়াল নয়াদিল্লি। সম্প্রতি দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সফল ভারত সফরের পর দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর এই উদ্যোগ কেবলমাত্র তেল কেনার পরিধি বাড়ানোর মধ্যেই সম্ভবত থাকবে না, বরং এটি ভারতের সামগ্রিক শক্তি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিরাট মাইলফলক হতে চলেছে।

মে মাসেই রেকর্ড আমদানি

রয়টার্সের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত মে মাসে ভারত ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ হিসেবে তালিকায় উঠে আসে। এই সময় ভারত প্রতিদিন প্রায় গড়ে ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ব্যারেল ভেনিজুয়েলার তেল কিনেছে। যেহেতু বিশ্বের প্রথম প্রমাণিত তেলের ভাণ্ডার রয়েছে এই দেশটিতেই। অন্যদিকে ভারতের বাজারে রয়েছে জ্বালানির বিশাল চাহিদা। যার কারণে এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দুই দেশের জন্যই যে লাভজনক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কেনার অর্থ শুধুমাত্র এই নয় যে, ভারত রাশিয়ার সস্তার তেল কেনা বন্ধ করে দিল। বরং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে দিনের পর দিন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে রুশ তেলের বিকল্প জ্বালানি আমদানি উৎসকে আরও বহুমুখী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এবার ট্রেনে করেই গঙ্গাসাগর? বিরাট উদ্যোগ কেন্দ্র-রাজ্যের

না বললেই নয়, ভারত তার চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। আর অতীতে মধ্যপ্রাচ্য এবং সম্প্রতি রাশিয়ার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভারতের জন্য একাধিকবার ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আগে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ তেল আসতো, যা বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। আর এই পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলাকেই কাতারবন্দি করছে ভারত। যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের দরাদরি করার ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেতে পারে।