সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এমনিতেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress)। ১৫ বছরের অপসাশন ঘটিয়ে এবার বাংলার ক্ষমতা দখল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই একেবারে রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এই দল। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পৌরসভার ১০০ একজন তৃণমূল কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই তাদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিশেষ করে দলত্যাগ বিরোধ, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই পদত্যাগ। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিল তিল করে গড়ে তোলা দলটি।
ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস
আসলে দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগে রাজ্যের ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের ১৭ জন দলীয় কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও দলের একাধিক ছোট-বড় তোলাবাজকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভা থেকেই ১৫ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি গারুলিয়া থেকে ১৮ জন, কন্টাই থেকে ১৪ জন, হালিশহর থেকে ১৬ জন, ভাটপাড়া থেকে ৩০ জন, এমনকি ডায়মন্ড হারবার থেকে ৮ জন কাউন্সিলর নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
এদিকে সোমবার ডায়মন্ড হারবার পৌরসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮ জন কাউন্সিলার একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন বলেই খবর। যে জায়গাটি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবেই পরিচিত, সেখানেই মমতা ব্যানার্জির এরকম পতন। এক কথায় বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে দলের অবস্থা বেশ খারাপ। পৌরসভা এবং বুথ পর্যায়ে দলের ভাঙন স্পষ্ট। এমনকি বর্তমানে দলকে বাঁচানোই মমতা ব্যানার্জির কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: লম্বা ব্রেকের পর ফের সুপ্রিম কোর্টে উঠছে বাংলার DA মামলা, কবে শুনানি?
না বললেই নয়, ২০১১ সালে ৩৫ বছরের বাম অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে ১৫ বছরের সেই শাসনের এবার অবসান ঘটেছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও আত্মবিশ্বাসী যে, তাঁর দল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। এমনকি তিনি নিজেই বলেছেন, “আমি আবারও দল পুনর্গঠন করব। পাশাপাশি একাধিক বিধায়ক, নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। এখন দেখার তাঁর দল ফের ঘুরে দাঁড়ায় কিনা।










