পুজোর আগে মদের দোকানের লাইসেন্সে বড় রদবদল, বাড়ল দূরত্বের মাপকাঠি

Published:

Liquor License Rule

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গে মদের দোকানগুলির লাইসেন্স নিয়ে এবার বড় বদল আনল রাজ্য সরকার। এমনকি খুচরো মদ বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মেও (Liquor License Rule) আনা হল একাধিক পরিবর্তন। শুধু তাই নয়, পুর অঞ্চলে নতুন দোকান খোলার (Liquor Shop Rules in West Bengal) জন্য বাড়ানো হল দূরত্বের সীমাও। এদিকে রাজ্যের তরফে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করার পরেই রাজস্ব বৃদ্ধির আশা জাগছে আবগারি দফতরে।

দোকান খোলার ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে দূরত্ব

নবান্নের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুরনিগম, পুরসভা বা নোটিফায়েড এলাকাগুলিতে মদের নতুন দোকান খুলতে হলে তা স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ন্যূনতম ৫০০ মিটার দূরে করতে হবে। আর পুর বা পঞ্চায়েত এলাকার বাইরে অবস্থিত জায়গাগুলির ক্ষেত্রেও এই দূরত্ব বাড়িয়ে এক কিলোমিটার করতে হবে। তবে চালু থাকা দোকানগুলি এর আওতায় পড়বে না। আগে ঠিক হয়েছিল স্কুল, কলেজ বা যে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ফুটের মধ্যে কোনও মদের দোকান খোলা যাবে না কিন্তু এবার নয়া নিয়মে আরও কড়াকড়ি করা হল। অন্যদিকে পুরনো বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশি মদের দোকানগুলিকে নতুন লাইসেন্সের আওতায় আনার জন্য একাধিক নিয়ম জারি করল প্রশাসন।

মদের লাইসেন্সে বড় বদল

জানা গিয়েছে, যে সকল ফরেন লিকার ট্রেড লাইসেন্সধারীদের (Liquor License Rule) দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা এবার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সব ধরনের মদ বিক্রির ৪(পি) লাইসেন্সের সাইট হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ পুরনো FL ‘ON’ শপের জায়গাতেই এখন নতুন ৪(পি) লাইসেন্স নিয়ে সব ধরনের মদ বিক্রি করা যাবে এবং নতুন রিটেল লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদনও করতে পারবেন। আবেদনের পর কলেক্টর সরেজমিনে তদন্ত করবেন। যদি জায়গাটি নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত নিষেধাজ্ঞা পালন করে তাহলে তিনি আবেদনটি আবগারি কমিশনারের কাছে সুপারিশ করবেন। এরপর কালেক্টর, নির্ধারিত লাইসেন্স ফি জমা দেওয়ার ভিত্তিতে, ক্যাটেগরি (E)-এর লাইসেন্স ইস্যু করতে পারবেন।

৪(পি) শ্রেণির নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত দু’ধরনের জায়গাকে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, ৪(এইচ) থেকে ৪(কে) শ্রেণির কোনও FL ‘অন’ দোকান থেকে যদি ৪(পি) শ্রেণির লাইসেন্সে ব্যবসা চালানো হয়, সেই জায়গাকে বিদ্যমান সাইট হিসেবে ধরা যেতে পারে। অন্যদিকে কোনও পুরনো লাইসেন্স বাতিল, প্রত্যাহার বা সমর্পণের ফলে যে জায়গায় খুচরো মদ কিংবা অন্য কোনও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিক্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেই প্রাঙ্গণকেও নির্দিষ্ট নিয়মে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন: ‘হনুমান চালিশা পড়ে হনুমানরা’, সনাতনীদের নিয়ে বাম নেতার মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক

নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে নয়া লাইসেন্সের জন্য ফি নির্ধারণ হবে West Bengal Excise (Payment of Fees for Grant of Licenses for Retail Sale of Certain Intoxicants) Rules, 2005 অনুযায়ী। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কলকাতা গেজ়েটের বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১৫৯২-এফটি-তে পশ্চিমবঙ্গ আবগারি (নতুন সাইট নির্বাচন এবং খুচরো মদ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স প্রদান) বিধি, ২০০৩-এ এই সংশোধন আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশোধনীগুলি গেজ়েটে প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনের ৩০, ৮৫ এবং ৮৬ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এই পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে নয়া এই নিয়ম জারির ফলে আবগারি দফতরের আশা এই খাতে এবার রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে মদ ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, এই নিয়ম চালু হওয়ায় নতুন লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হতে পারে।

google button