গলতে পারবে না মাছিও! সীমান্তে বসছে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রযুক্তি, বড় সিদ্ধান্ত অমিত শাহের

Published:

Smart Border

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবার বিরাট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে মোদী সরকার (Government of India)। হ্যাঁ, দেশের হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে আসছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সীমান্ত পাহারায় শুধুমাত্র বিএসএফ জওয়ানদের শারীরিক নজরদারি নয়, বরং তার সঙ্গে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, থার্মাল ইমেজিং এবং ড্রোনের এক দুর্ভেদ্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক যুক্ত হতে চলেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) দেশের বিভিন্ন সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে স্মার্ট বর্ডার (Smart Border) প্রজেক্টের কথা উল্লেখ করেন। আর অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হতে চলেছে।

কী এই স্মার্ট বর্ডার প্রজেক্ট?

আসলে স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পটি মূলত কমপ্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা CIBMS এর উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। এটি প্রথাগত লোহার কাঁটাতারের বেড়ার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী আর প্রযুক্তি নির্ভর। আসলে ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে প্রায় ৬০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংবেদনশীল এলাকাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে নদীপথ থেকে শুরু করে পাহাড়ি খাদ বা ঘন জঙ্গল কিংবা জলাভূমি, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বা জওয়ানদের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়া কঠিন, সেই সমস্ত দুর্গম এলাকাগুলিকে ডিজিটাল সুরক্ষা বলয়ে ঘিরে ফেলা স্মার্ট ফেন্সিং প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য।

তবে এই দুর্ভেদ্য নজরদারী ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হল অত্যাধুনিক সেন্সর আর এআই প্রযুক্তি। সীমান্তে বসানো হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি এবং ইলেকট্রন অপটিক্যাল ক্যামেরা, যার মাধ্যমে থাকা থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঘন কুয়াশা বা বর্ষার দিনেও নিখুঁত ছবি পাঠাতে সক্ষম। এমনকি অনেক সময় সীমান্তে গবাদি পশু বা জীবজন্তু চলে এলে ভুল অ্যালার্ম বেজে ওঠে। তবে এই ক্যামেরায় থাকা এআই চিপ মুহূর্তের মধ্যেই মানুষ, বন্য পশু কিংবা কোনও গাড়ি বা ড্রোনের গতিবিধির পার্থক্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। আর কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি কিংবা অনুপ্রবেশের চেষ্টা নজরে আসা মাত্রই এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেবে।

থাকবে ড্রোনের প্রযুক্তি

তবে মাটির নজরদারির পাশাপাশি আকাশপথেও কড়া ব্যবস্থা দিচ্ছে এই প্রজেক্ট। জানা গিয়েছে, এখানে থাকবে ব্যাটলফিল্ড ও গ্রাউন্ড সারভাইল্যান্স র‍্যাডার, যেগুলি কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে যে কোনও অনুপ্রবেশকারীর অবস্থান এবং গতিপথ নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারবে। এর পাশাপাশি থাকছে ড্রোন ডিটেকশন সিস্টেম। বিশেষ করে এটি পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র বা ড্রাগ চালান রুখতে ভূমিকা পালন করবে। কোনও অচেনা ড্রোন কিংবা কোয়াডকপ্টার সীমানার কাছাকাছি আসলেই র‍্যাডার তা ধরে ফেলবে। আর জ্যামার প্রযুক্তির সাহায্যে সেটিকে অকেজো করে দেবে। এমনকি জওয়ানদের পাশাপাশি সারা দিনরাত সীমান্তজুড়ে নিয়মিত চক্কর কাটবে সেন্সরযুক্ত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন।

আরও পড়ুন: ৬০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে ৩০১ টাকা আয়, ভয়াবহ দুর্দশা চাষিদের

উল্লেখ্য, অসম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান দিনের পর দিন বাড়ছে। তা রুখার জন্যই স্মার্ট বর্ডার কার্যকরী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত সুরক্ষায় এমনিতেই গতি এনেছেন শুভেন্দু অধিকারী সরকার। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দীর্ঘদিনের জমিজট অবসান ঘটিয়েছে নতুন সরকার। এমনকি বিএসএফের হাতে জমিও তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন দেখার এই প্রযুক্তি কত তাড়াতাড়ি কার্যকর হয়।