চাষিদের মাথায় বাজ! ভারতের আম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল জাপান

Published:

Japan on Indian Mango

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গোটা বিশ্বজুড়ে এমনিতেই ভারতীয় আমের কদর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে জাপানের বাজারে ভারতের ল্যাংড়া, হিমসাগরের মতো প্রিমিয়াম জাতের আমের বিপুল পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। তবে চলতি মরসুমের ভরা বাজারে ভারতীয় আম রফতানি বাণিজ্যে নেমে এল চরম বিপর্যয়। হ্যাঁ, দীর্ঘ ২০ বছর পর ভারত থেকে আমদানির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান সরকার (Government of Japan)।

সূত্রের খবর, জাপান কোয়ারেন্টাইন কর্তাদের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে ভারতের একটি শোধনকেন্দ্রে পোকা দমনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছিল। আর সেখান থেকেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Japan on Indian Mango)। যার ফলে ভরা আমের মরসুমের মাঝ পথে রফতানি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মাথায় হাত পড়েছে একেবারে বড় বড় আমচাষি এবং রফতানিকারকদের।

বড়সড় সিদ্ধান্ত জাপানের

উল্লেখ্য, জাপান সরকারের এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা গত ২ দশকের ইতিহাসে এই প্রথমবার। এর আগে ফ্রুট ফ্লাই বা ফল মাছির উপদ্রব সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারত থেকে আম আমদানির উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল টোকিও। পরবর্তী সময়ে ভারত সরকার আম শোধনের প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ করার পর বিগত ২০০৬ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতেই জাপানি উদ্ভিদ ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা পুনরায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এবং ভারত থেকে পাঠানো আম তাদের কঠোর ভেষজ ও উদ্ভিদ নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না বলে জানিয়েই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

কী এই ফ্রুট ফ্লাই বা ফল মাছি?

আসলে জাপান সরকার তাদের নিজস্ব কৃষিক্ষেত্রকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যে কোনও ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধ জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। ফ্রুট ফ্লাই আসলে আকারে অত্যন্ত ছোট এক ধরণের উড়ন্ত পোকা, যেগুলি ফল ও সবজির উপরে বংশবৃদ্ধি করে, এবং এটি আম, পেয়ারা, তরমুজ, করলার মতো ফসলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। বিশেষ করে স্ত্রী মাছিগুলি আমের খোসা ভেদ করে ভেতরে ডিম পাড়ে। আর ডিম ফুটে লার্ভা বের হওয়ার পর সেগুলি আমের ভেতরের নরম অংশগুলি খেতে শুরু করে। যার ফলে আমটি বাইরে থেকে ভালো দেখতে মনে হলেও ভেতর থেকে দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই মাছি একবার জাপানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলেই সেখানে সামগ্রিকভাবে ফলনের উপর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

আরও পড়ুন: অবশেষে মাঠে ফিরছেন অভিষেক, ক্ষত সারাতে শনিবার থেকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু

এদিকে দুই দেশের রফতানি চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর আমের মরসুম শুরু হওয়ার আগে জাপানের কোয়ারেন্টাইন আধিকারিকরা ভারতে এসেই এদেশের শোধনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। আর সেক্ষেত্রে তারা আমগুলি নিয়ন্ত্রিত গরম এবং আর্দ্র বাতাসের মধ্যে রাখেন, যাতে আমের কোনও ক্ষতি না করে তার ভেতরে থাকা পোকা বা ফ্রুট ফ্লাই লার্ভা নিমেষে মেরে ফেলা যায়। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরে অবস্থিত ভিএইচটি সেন্টার পরিদর্শন করতে যান জাপানি প্রতিনিধিরা। আর সেখানেই এই সমস্যা ধরা পড়ে। যে কারণে ২৫ মার্চের পর শোধন করা কোনও ভারতীয় আম জাপানের বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না।