রেড রোডে নামাজের মতোই ধর্মতলায় বন্ধ জমায়েত! কোথায় শহিদ দিবস পালন করবে তৃণমূল?

Published:

Trinamool Congress

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই একের পর এক কর্মীদের দলত্যাগ নিয়ে বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ekhon ঘরবন্দি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সামনে পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, আগামী ২১ জুলাই, ‘শহিদ তর্পণ’-এর বার্ষিক কর্মসূচি (21 July Shahid Diwas Programme) কী ভাবে এবং কোথায় হবে। প্রতিবারের মত এবারও কি জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে হবে দলীয় অনুষ্ঠান। দলের অন্দরে বাড়ছে ব্যাপক জল্পনা।

প্রশ্নের মুখে ২১ জুলাই কর্মসূচি

বাম আমলে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের জমায়েত হয়েছিল ধর্মতলায়। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল যে, বাম সরকারের পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী নিহত হয়েছিলেন। এরপরই মৃত কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কংগ্রেসের তরফে ওই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়ে থাকে। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনের পরে বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। ধরাশায়ী অবস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের। এদিকে এই ভরাডুবি অবস্থায় একের পর এক নেতা, কর্মী ছাড়ছেন দল। তাই স্বাভাবিকভাবেই দলের শহীদ দিবসের কর্মসূচি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাতে সময় থাকলেও বার্ষিক কর্মসূচি কী ভাবে এবং কোথায় হবে, সেই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে।

কর্মসূচি নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা জানিয়েছেন, “শহিদ তর্পণ কর্মসূচি তৃণমূলের সাধারণ কর্মী- সমর্থকদের আবেগ। সেখানে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর থেকে চারিদিকে একাধিক হামলা ও মিথ্যা মামলা চলছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা আইনি ঝামেলা এড়াতে নেতা-কর্মীদের একাংশ দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছেন। তাঁদের মধ্যে সাংসদ, বিধায়ক, সাংগঠনিক পদাধিকারীও রয়েছেন। ফলে কী হবে, তা দেখতে হবে।” এছাড়াও ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে যে জায়গায় তৃণমূলের এই কর্মসূচি হয়ে থাকে, সেখানে এবার প্রশাসনিক অনুমতি মিলবে কিনা তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: এবার মমতার বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগ দায়ের থানায়

তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘এটা ঠিক যে, এবার ২১ জুলাই কর্মসূচি নিয়ে নানা সমস্যা থাকছে। তবে এখনও অনেক সময় রয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও আদালতে যাব। কারণ এই কর্মসূচিটি ঠিক দলের বা রাজনৈতিক আর পাঁচটা কর্মসূচির মতো নয়। এটা একটা গণ-আন্দোলনের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের দিন।” অন্যদিকে কিছুদিন আগেই ধর্মতলায় শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাই কংগ্রেসের তরফে পালন করা হবে বলে দাবি তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

উল্লেখ্য, বিজেপি সরকারে আসতেই ধীরে ধীরে রাস্তা থেকে জমায়েত, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করতে চাইছে। এবার ৫০ বছর পর রেড রোডে ঈদের নামাজ হয়নি। তার বদলে ব্রিগেডের ময়দানে নামাজ পড়তে হয়। এখন দেখার বিষয় এটাই যে, তৃণমূলকে ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভা করার অনুমতি দেয় নাকি প্রশাসন।