সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা! তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে এবার খুনের চেষ্টার অভিযোগ বিজেপি নেতার। সাংসদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) পদ্মপ্রার্থী অভিজিৎ দাস ওরফে ববি (Abhijit Das)। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালে ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাটে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং খুনের চেষ্টাও করা হয়। তার পিছনে নাকি হাত ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের! এমনকি তখন তিনি বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি পদে মনোনীত ছিলেন।
অভিষেকের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ
এমনিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর বিপাকে পড়েছেন দলটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। একাধিকবার সিআইডি তলব করা সত্ত্বেও হাজিরা দিচ্ছেন না তিনি। গা ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলের সাংসদ। একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। সেই তালিকায় যুক্ত হল খুনের চেষ্টার অভিযোগ। উল্লেখ্য, অভিষেকের গড় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে ২০২৪ সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন অভিজিৎ দাস। রাজনীতিতে অন্যতম পরিচিত মুখ তিনি। তিনিই এবার তাঁর বিরোধী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন।
তাঁর স্পষ্ট দাবি, ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর দুপুর ২:৪০ মিনিট নাগাদ ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাটে স্বস্তিক ভবনের কাছে তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন। এমনকি তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় আর খুনের চেষ্টা করা হয়। সেদিন তিনি একটি রাজনৈতিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন বিজেপি সহকর্মীও ছিলেন। তবে হঠাৎ করে একটি সশস্ত্র টিম তাঁদের গাড়ি আটকে হামলা করে। এমনকি তাঁদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। গাড়ি থেকে টেনে এনে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন, এবং মাথায় চোট পান। দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় তাঁকে। এমনকি হামলাকারীরা গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হন। তবে সেই সময় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলেই দাবি বিজেপি নেতার।
আরও পড়ুন: নূন্যতম বেতন হতে চলেছে ৬৯,০০০ টাকা? সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর
তাঁর স্পষ্ট দাবি, এটি চক্রান্ত ষড়যন্ত্র ছিল এবং এর পিছনে হাত ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার বিষয়টি তদন্তের জন্য ১০ দফার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এমনকি পুলিশের ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির নেতা। তিনি জানান, সেই সময় পুলিশ তাঁর কথায় কোনও কর্ণপাত করেনি। শাসকদলের গোলাম হয়েছিল পুলিশ। তবে যেহেতু এবার সরকারের পালাবদল ঘটেছে, তাই একে একে মুখোশ খুলছে তৃণমূল নেতাদের। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগে বিভিন্ন থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এমনকি তিনি রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত আদালত তাঁর দাবি মান্যতা দেয়নি। তবে এতকিছুর মধ্যে যে আরও বিপাকে পড়লেন তৃণমূলের সাংসদ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।










