‘ওই জঞ্জাল আর চাই না’— কংগ্রেসে মমতার কামব্যাক জল্পনা নিয়ে বিস্ফোরক একাধিক কংগ্রেস নেতা

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কঠিন অবস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের। একের পর এক দলীয় নেতা, বিধায়ক এবং সাংসদেরা শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তুলে আনছেন শতাধিক অভিযোগ। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রায় সকলেই গড়ে তুলছেন আলাদা জোট। রাজনৈতিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক সম্পূর্ণ নিঃস্ব। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে কংগ্রেসে (Indian National Congress) ফিরে আসতে চলেছেন? আর এই প্রসঙ্গ উঠতেই পুরোনো ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা (Congress Leaders)।

কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন মমতা

উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাজীব গান্ধীর হাত ধরেই রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখান থেকেই তাঁকে সর্বভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন। এরপরেই কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হয়ে উঠেছিলেন মমতা। কিন্তু শেষে ১৯৯৮ সালে এই কংগ্রেসেরই হাত ছেড়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে পৃথক দল গড়েছিলেন। নানা লড়াই, সংগ্রাম এবং অনশনের মধ্যে দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল এই তৃণমূল।

ক্ষমতা হারাতেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ!

২০১১ সালে জনগণের বিচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসেন। আর সেই সময় কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। একাধিক বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকে। তবে ১৫ বছর পর ২৬ এর নির্বাচনেই রাজনৈতিক সমীকরণ ঘটল। প্রথমবার বাংলায় সরকার গঠন করল বিজেপি। এদিকে ক্ষমতা হারিয়ে এখন ফের মমতা ও অভিষেক কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের শরণাপন্ন হচ্ছেন। সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক, আলাপ-আলোচনা করছেন, আর তাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের একটা বড় অংশ মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে।

কী বলছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী?

রিপোর্ট অনুযায়ী গত মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। আর সেখানেই নাকি সনিয়া মমতাকে দলের জাতীয় সহ সভাপতির দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব রেখেছিলেন। আর সেই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানিয়েছেন, “তৃণমূলের অবস্থা আপনারা দেখতে পারছেন। পুরো দল ছন্নছাড়া হয়ে যাচ্ছে। বড় বড় নেতারা পালিয়ে যাচ্ছেন। এতদিন তো কংগ্রেস দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন মনে হল না। এখন ওঁদের মনে হচ্ছে, এটা এখন করা উচিত।”

আরও পড়ুন: ইথানল পেট্রোলের ওপর আবগারি শুল্ক তুলে নিল সরকার, কমতে পারে দাম

উত্তর দিনাজপুরের কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তও মমতার দলে ফের নিয়ে জানিয়েছেন, “আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। আমরা কোনওমতে মেনে নেব না। আমরা চাই ওই জঞ্জাল আর যেন কংগ্রেসে না আসে। এইসব মানুষ যদি কংগ্রেসে আসে, গ্রামবাংলার মানুষ আর কংগ্রেস করবে না।” যদিও, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। হয়তো পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট হতে পারে। তবে সেসব নিয়ে এখনই কিছু ঘোষণা করা হয়নি।