মাছ ভাজার নামে ডাকা হত মহিলাদের! এবার প্রকাশ্যে ‘দেগঙ্গার শাহজাহান’-র কীর্তি

Published:

Deganga

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই এবার উত্তর ২৪ পরগনায় (North 24 Parganas) আরেক শাহজাহানের খোঁজ মিলল। দেগঙ্গার (Deganga) তৃণমূল নেতা (TMC Leader) রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠে এল একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ। জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার হাঁসিয়ার তাঁর বিলাসবহুল বাগানবাড়িতে নাকি রাত হলে মাছ কাটা, মাছ ভাজার নাম করে ডেকে পাঠানো হত মহিলাদের।সঙ্গে বসত মদের আসর।

১০ কোটির সম্পত্তি রবিউলের

রবিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হতেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলছেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, মাছ কাটা, মাছ ভাজা কখনও আবার রান্নার কাজের কথা বলে প্রায়ই স্থানীয় মহিলাদের ডেকে পাঠানো হত ওই বিলাসবহুল বাগানবাড়িতে। পুকুরপাড়ে প্রায় একশো বিঘা জমির উপর দোতলা ওই বাগানবাড়ি। রয়েছে কয়েকহাজার গাছ, সেগুলির বেশিরভাগই নাকি সরকারি। এখানেই প্রায় ১০ কোটির সম্পত্তি রয়েছে। সন্ধ্যার পর নাকি ওই বাগানবাড়িতে নিয়মিত বসত মদের আসর। মহিলাদের ব্যবহার করে চালানো হত অসামাজিক কর্মকাণ্ড।

রয়েছে জমি জালিয়াতির অভিযোগ

জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলাম দেগঙ্গার দাপুটে নেতা ছিলেন। এই রবিউল আবার হাড়োয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বন ও ভূমি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। এলাকায় তাঁর রাজত্বে রীতিমত ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছিল। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক, বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, একসময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন রবিউল। কিন্তু পরে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সম্পত্তিও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। রবিউল নাকি শতাধিক বিঘা জমির মালিক তিনি। এছাড়াও হাসিয়াতেই তিন-তিনটে বাড়ি রয়েছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় অর্থ সাহায্য পাবেন শুধু এরা, ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

তৃণমূলের জমানায় এই রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মাটিপাচার, লুটপাট, সরকারি টাকা আত্মসাতের মতো অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই সময় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শোনা যাচ্ছে, দেগঙ্গার হাসিয়ায় নাকি সাম্রাজ্য রয়েছে রবিউলের। যদিও স্থানীয়দের তোলা অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলামের পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। এদিকে এই একই অভিযোগ উঠেছিল সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধেও। তিনিও পিঠে বানানোর নাম করে মহিলাদের পার্টি অফিসে ডেকে পাঠিয়ে অত্যাচার চালাতেন। তবে এখন সে হাজতে।