জল থেকে চিকিৎসা, সবকিছুতেই ফেলবে প্রভাব! বড় আবিস্কার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের

Published:

University of Burdwan

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গবেষণার ক্ষেত্রে এবার বিরাট সাফল্য পেল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় (University of Burdwan)। ক্ষুদ্র সেমিকন্ডাক্টর কনা বা কোয়ান্টাম ডট নিয়ে অভিনব গবেষণার জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে পেটেন্ট পেয়েছে বিদ্যালয়ের গবেষকরা। আর এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের জল বিশুদ্ধকরণ থেকে শুরু করেছে চিকিৎসা প্রযুক্তি, শক্তি সঞ্চয় এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

প্রসঙ্গত, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি নতুন এই প্রযুক্তির নাম “Method of Spontaneous Interaction of CdSeS, ZnS Alloyed Quantum Dots with Free Base Porphyrazine (H2Pz) in Solution”। গত ১০ মার্চ এই প্রযুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে পেটেন্ট অনুমোদন করা হয়েছে।

বড় আবিষ্কার গবেষকদের

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, গবেষকরা এবার এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যেখানে অত্যন্ত ক্ষুদ্র সেমিকন্ডাক্টর কণা CdSeS, ZnS Alloyed Quantum Dots এবং আলো শোষণ করতে সক্ষম একটি জৈব অনু Free Base Porphyrazine (H2Pz) এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীল বন্ধন তৈরি হচ্ছে। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরকম একটি নতুন ধরনের উপাদান তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রথমত, গবেষকদের মতে এই প্রযুক্তির সবথেকে বড় সুবিধা হল উন্নত ইলেকট্রন পরিবহন ক্ষমতা। যার ফলে ভবিষ্যতে বেশি সময় চলার মতো স্মার্টফোন ব্যাটারি, আরও কার্যকর সৌরকোষ আর বেশি দূরত্ব চলতে সক্ষম বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে সাহায্য করতে পারবে এই প্রযুক্তি। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রযুক্তিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাড়তে পারে নতুন সম্ভাবনা

এদিকে এই গবেষণার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চিকিৎসা প্রযুক্তি। গবেষকদের দাবি, আলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবহারযোগ্য হাতিয়ার হতে পারে। বিশেষ করে Photodynamic Therapy এর মতো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। যেখানে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোষকে লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও শরীরের ভিতরে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার মতো উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম তৈরিতে এই ধরনের প্রযুক্তি কাজে লাগবে বলেই খবর।

আরও পড়ুন: ফুঁসছে নিম্নচাপ অক্ষরেখা, দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায় সতর্কতা, আজকের আবহাওয়া

তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে জলের আর্সেনিক দূষণ বড় ধরনের সমস্যা। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এরকম সেন্সর তৈরিতে সাহায্য করতে পারে, যা দ্রুত জল থেকে ক্ষতিকর উপাদান যেমন আর্সেনিক বা বা ভারী ধাতু সনাক্ত করতে পারবে। যার ফলে নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন রাস্তা খুলতে পারে।