প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মিড ডে মিলে (Mid Day Meal) নিরামিষ আমিষ বিতর্কের মাঝেই এবার রাঁধুনিদের নিয়ে আরও এক সমস্যার প্রকট হল। প্রশ্ন উঠছে ইসকন (Iskcon) দায়িত্ব নিলে তাঁদের কী হবে? পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে মিড ডে মিলের খাবার নিয়ে একাধিক অভাব-অভিযোগের কথা সামনে উঠে এসেছিল। কখনও টিকটিকি তো আবার কখনও খাবারে সাপ পড়ে থাকার খবরও সামনে উঠে এসেছিল। এমতাবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিল সরবরাহ করার দায়িত্ব ইসকনকে দিতেই শুরু হল আরও সমস্যা। এবার সেই নিয়ে মুখ খুললেন মন্ত্রী।
মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হল ইসকনকে
সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন যে কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহ করবে ইসকন। এমনকি বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি বসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও বলেছিলেন যে, “পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে কলকাতার স্কুলগুলির জন্য মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। খেয়ে দেখুন গুণমানে বেশ ভাল। যদি আপনার ইচ্ছা না হয় তাহলে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলবেন না।” এমতাবস্থায় নিরামিষ আমিষ বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এমনকি এও প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে ইসকন দায়িত্ব নিলে মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের কী হবে?
কী বলছেন মন্ত্রী?
জানা গিয়েছে, ইসকনের নিজেদের কমিউনিটি কিচেন রয়েছে। তাঁদের লোকেরাই সেখানে খবর তৈরি করে। ফলে প্রশ্ন উঠছে তারা কি সেই কমিউনিটি কিচেনে মিড-ডে মিলে নিযুক্ত কর্মীদের দিয়েই রান্না করাবে? এই প্রশ্নের জবাবে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন সাফ জানান, “তাঁরা তো কাজে আছেন, তাঁদের বেতন এক হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তবে তাঁদেরকে ইসকন কমিউনিটি কিচেনে রাখা হবে কিনা সেটা নিয়ে এখনও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটা পাইলট প্রজেক্ট। এর একাধিক বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। ফলে এই কাজে আলোচনা করে সমাধান বের করে আনা হবে।”
আরও পড়ুন: তীব্র বজ্রপাত শুরু, কলকাতা সহ ৫ জেলায় ধেয়ে আসছে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়
মিড ডে মিলে নিরামিষ আমিষ বিতর্কে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস জানিয়েছেন, ‘‘একই রাজ্যের কোনও পড়ুয়ারা ডিম ও মাংস পাবে, আর কলকাতার পড়ুয়ারা নিরামিষ খাবে। এই বৈষম্য কেন? ক্ষমতায় আসার আগে সরকার বলেছিল যে তারা মাছ মাংস ও আমিষের বিরুদ্ধে নয়। বাস্তবে তাহলে এ কেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা?’’ অন্যদিকে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট কোনও ধর্মীয় সংস্থাকে মিড-ডে মিলের মতো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত না করাই ভাল। তা ছাড়া, কেন পড়ুয়াদের নিরামিষ খেতে বাধ্য করা হবে? বাঙালী পড়ুয়ারা আমিষ খেতেই পছন্দ করে।’’










