অনন্যা সরকার, কলকাতা: কথায় বলে আমাদের জীবন কল্পনার থেকেও বেশি বৈচিত্র্যময়, এখানে কখন কী ঘটবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। যেমনটা ঘটেছে তরুণী পান্ডের ক্ষেত্রেও। ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেই তরুণী। কিন্তু তার ভাগ্য অন্যরকম পরিকল্পনা করে রেখেছিল। গুরুতর অসুস্থতার কারণে শৈশবের স্বপ্নকে বিসর্জন দেওয়া থেকে শুরু করে মাত্র ৪ মাসের প্রস্তুতিতে ইউপিএসসি পাস করে আইএএস অফিসার (UPSC Success Story) হয়ে জীবনের নতুন দিশার সন্ধান পাওয়া পর্যন্ত – তরুণী পান্ডের (IAS Taruni Pandey) এই সাফল্যের যাত্রা অনুপ্রেরণা যোগাবে বহু তরুণ-তরুণীকে।
মাত্র ১২০ দিনে ইউপিএসসি-এর প্রস্তুতি
পশ্চিম বর্ধমানের চিত্তরঞ্জনে জন্ম নেওয়া তরুণী পান্ডে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরে তিনি এমবিবিএস (MBBS)-এর জন্য পড়াশোনাও শুরু করেছিলেন, কিন্তু টাইফয়েড, ডেঙ্গু এবং সেরিব্রাল ম্যালেরিয়ার মতো গুরুতর অসুখের কারণে তাকে মাঝপথেই ছাড়তে হয় ডাক্তারির জন্যে পড়াশোনা। এরপর, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি।
তরুণীর মনে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা আগে থেকে ছিল না। তবে তার ভগ্নিপতির অকাল মৃত্যুর পর বোনের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। আমলা ও রাজনীতিবিদরা মানুষের জীবনে যে প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই তাকে অনুপ্রেরণা যোগায়। সেই মুহূর্তেই তরুণী ঠিক করেন তিনিও একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন।
তাই শুরু করেন দেশের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের প্রস্তুতি। তিনি প্রথমে ২০২০ সালে ইউপিএসসি-এর প্রিলিমস দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু এখানেও আসে বাধা। পরীক্ষার মাত্র চার দিন আগে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে, ফলে পরীক্ষা থেকে সরে আসতে হয়। কিন্তু আশাহত হননি তরুণী। ২০২১ সালে জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৩২ বছর বয়সসীমার মধ্যে তিনি অদম্য সংকল্প নিয়ে তার শেষ চেষ্টা করেন।
প্রস্তুতির জন্য মাত্র চার মাস সময় হাতে ছিল, কোনো কোচিং ইনস্টিটিউটের সাহায্য নেননি তরুণী। একটি সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত কৌশলের ওপর নির্ভর করেছিলেন। তিনি মোটা মোটা পাঠ্যবই পড়তেন না, বদলে নোট তৈরি করেন ও বিষয়গুলো বুঝে নিতে ইউটিউব লেকচারের সাহায্য নেন। সীমিত সময়ের মধ্যেই কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ইউপিএসসি সিএসই ২০২১ পরীক্ষার সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ১৪ (AIR 14) অর্জন করে নেন।
আরও পড়ুনঃ জলের ওপর ভাসবে বিমানবন্দর! তৈরি হচ্ছে ভারতের প্রথম ফ্লোটিং এয়ারপোর্ট
তরুণী পান্ডের এই সাফল্যের কাহিনী প্রমাণ করে যে, ব্যর্থতা মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না, বরং ব্যর্থতাকে সে কীভাবে গ্রহণ করছে সেটাই আসল। দৃঢ় সংকল্প, সুপরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি এবং সব বাধা কাটিয়ে ওঠার ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি আজ জীবনের প্রাথমিক ব্যর্থতা থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এক দুর্দান্ত জয় পেয়েছেন।










