কাশ্মীরে বন্দী ৫ বাঙালি শ্রমিক, মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি ঠিকাদারের

Published:

Migrant Workers Trapped In Kashmir
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কিছুদিন আগেই ভিনরাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছিল, রীতিমত উথাল পাতাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক অন্দরে। এই ঘটনায় শাসকদল ক্রমেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছিল। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে এলো আরো একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা। জানা গিয়েছে কাশ্মীরে আটকে পড়েছে ৫ বাঙালি শ্রমিক (Migrant Workers Trapped In Kashmi) তাঁদের ছাড়তে নারাজ ঠিকাদার। মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে ৪০ হাজার

ঠিক কী ঘটেছে?

প্রতিবারের মতো এবছরও তুষারপাত হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। বরফের সাদা চাদরে ঢেকেছে ভূস্বর্গের রাস্তাঘাট, গাছপালা। আর এই ভয়ানক ঠান্ডা এবং তুষারপাতের মধ্যেই কাশ্মীরে আটকে পড়েছেন পাঁচ শ্রমিক। এই অবস্থায় আটকে থাকা শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা ফিরতে দিচ্ছেন না, চাইছেন মুক্তিপণ। সম্প্রতি এমনই এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন আটকে থাকা ওই পাঁচ শ্রমিক। জানা গিয়েছে, ওই ঠিকাদার চল্লিশ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, টাকা না দিতে পারলে তাঁদের প্রাণে মারার হুমকিও দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

কোথায় থাকে ওই ৫ শ্রমিক

খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, কাশ্মীরে আটকে থাকা ওই পাঁচ শ্রমিকের নাম রবি মুশাহর, দিলীপ বাউরি, শিবা দাস, ভোলা তুরি এবং সিকান্দার তুরি। তাঁদের বাড়ি চিত্তরঞ্জন সংলগ্ন মিহিজামের কৃষ্ণনগর ৫ নম্বর রোড এবং রেলপার গান্ধীনগর এলাকায়। ভিডিও বার্তায় ওই পাঁচ যুবক জানিয়েছেন মাসখানেক আগে দুমকার বিজয় মির্ধা এবং মালিক মির্ধা ও আরো একজন ঠিকাদার কাজ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের কাশ্মীরে নিয়ে আসেন। সেখানে গিয়ে তাঁদের রাস্তার ধারে পাথরের দেওয়াল তৈরীর কাজ দেওয়া হয়। খুব কষ্টে তুষারপাতের মধ্যেই কাজ জড়ানো হয়, ঠিক সময়ে খাবারও দেওয়া হয় না। কাজ না করতে চাইলে চরম অত্যাচার করে অভিযুক্ত ওই ঠিকাদার। বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করার সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে

আরও পড়ুন: শিলিগুড়ির স্কুলে আচমকাই ডাবল হল ফি, প্রতিবাদে রাস্তায় পড়ুয়া, অভিভাবকেরা

সূত্রের খবর, ওই পাঁচ শ্রমিক নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শেষে কোনো রকমে একটি মোবাইলের সন্ধান পান। এরপর এক সাংবাদিকের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেন এবং সমস্ত বিষয়টি জানান। তাঁদের আবেদন এই পরিস্থিতিআরও হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেন মিহিজামের সামাজিক সংগঠন এবং ঝাড়খন্ড প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং তাদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করে দেয়। এখনও ওই সংগঠনের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এই ঘটনা আদতে ঘটেছে কিনা নাকি সম্পূর্ণ ভুয়ো তা তদন্ত করে যাচাই করা হচ্ছে।