প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উন্নয়নের জোয়ার আসতে চলেছে উত্তরবঙ্গে! সেখানকার সার্বিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে শীঘ্রই পাঁচটি শহর নিয়ে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ (Himalayan Hill City Project) গড়ে তোলার আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। এছাড়াও সেখানকার পরিকাঠামোগত উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন নিয়েও দিলেন বিশেষ বার্তা। ক্ষমতার রদবদল হতেই উত্তরবঙ্গ নিয়ে বিজেপির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে বলে দাবি করছে একাংশ।
সাংবাদিক বৈঠকে অগ্নিমিত্রা পাল
গতকাল অর্থাৎ রবিবার উত্তরবঙ্গে রাজ্যের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এছাড়াও ওই বৈঠকে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায় প্রমুখ। জানা গিয়েছে, সেখানকার মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, জেলাশাসক এবং পুলিশকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন যে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকাজের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে।
Agnimitra Paul has reiterated the development of 5 Himalayan hill cities proposed by Manohar Lal Khattar. https://t.co/5FfVH73rYV pic.twitter.com/aNzWToGPsI
— Bengal Leap (@BengalLeap) June 7, 2026
হিমালয়ান হিল সিটি গড়ে তোলার বার্তা
ভোটের আগে প্রচারে এসে উত্তরবঙ্গ বঞ্চনা ইস্যুকেই তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের মুখে শোনা গিয়েছে উত্তরবঙ্গে বঞ্চনা দূর করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এবার সেই উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়েই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করলেন, এ বার শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক — এই পাঁচটি শহর নিয়ে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গড়ে তোলা হবে। আর এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকাঠামো, পর্যটন, পানীয় জল থেকে নাগরিক পরিষেবার আধুনিকীকরণে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। অর্থাৎ পাহাড় ও সমতলের মধ্যে উন্নয়নের সেতুবন্ধন করতে এবার উঠে পড়ে লাগল সরকার।
সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে কড়াকড়ি প্রশাসন
উত্তরবঙ্গে এদিন এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও নজর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, “ বাল্যবিবাহ, নাবালিকা এবং মহিলা পাচার, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের মতো অপরাধ দমনে এগিয়ে এসেছে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন NGO-র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।” এছাড়াও যে সকল মন্দিরগুলোতে বেশি ভিড় থাকে সেই সকল মন্দিরের ফেলে দেওয়া ফুল দিয়ে ধুপকাঠি বানানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: গভীর রাতে যাদবপুরে উচ্ছেদ অভিযান, লাঠিচার্জে আহত অনেকে, আটক সৃজন
অগ্নিমিত্রা পাল এদিন উত্তরবঙ্গকে কীভাবে পূর্ববর্তী সরকার তৃণমূল বঞ্চিত করেছে সেই প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “আমাদের সরকারের কেন আনা হয়েছে? ১৫ বছর বাংলার মানুষ, উত্তরবঙ্গের মানুষ কোনও পরিষেবা পায়নি। উত্তরবঙ্গের মানুষ তো পুরোপুরি বঞ্চিত। তৃণমূলের সুপ্রিমো প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। ঠকিয়েছেন। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার প্রত্যেকটার কথা রাখব, আর সেটা দেখতে পাচ্ছেন বাংলার মানুষ।” এছাড়াও তিনি আরও বলেন, “আমরা উত্তর-দক্ষিণ এভাবে করতে চাই না। পুরো বাংলা জুড়ে একইভাবে উন্নয়ন হবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রথম প্রায়োরিটি হল উন্নয়ন।”










