প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অপেক্ষার অবসান, আজ থেকেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপত্র দেওয়ার কাজ শুরু করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC Class 11 12 Teacher Recruitment)। স্বস্তিতে সফল চাকরি প্রার্থীরা। উল্লেখযোগ্য হল এ বছরই প্রথম জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের পরিবর্তে মিশ্র মেধাতালিকা বা ‘কম্বাইনড মেরিট লিস্ট’-এর মাধ্যমে ‘ওপেন কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ স্কুল বাছাইয়ে প্রার্থীদের সুবিধা হবে বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।
মঙ্গল থেকেই শুরু কাউন্সিলিং প্রসেস
রিপোর্ট মোতাবেক মেধা তালিকা প্রকাশের প্রায় একমাসের মাথায় অবশেষে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে একাদশ দ্বাদশের সফল প্রার্থীদের হাতে সুপারিশপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া। একাধিক বিষয়ে রাজ্যের থেকে জাতিভিত্তিক ও বিষয় ভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা পাওয়ার পর স্কুল সার্ভিস কমিশন আজ থেকে শুরু করছে কাউন্সিলিং প্রসেস। প্রার্থীরা এই কাউন্সেলিং প্রসেস উত্তীর্ণ করলেই নিয়োগপত্র হাতে পাবেন। এরপরই শসেই নিয়োগপত্রের মাধ্যমে মিলবে চাকরি। জানা গিয়েছে, মোট ৭টি বিষয়ের প্রথম পর্যায়ের কাউন্সিলিং হবে আজ ও কাল। আর এই দুদিনে মোট ১৭২ জন সফল প্রাথী পাবেন সুপারিশ পত্র।
CML অনুযায়ী হবে ওপেন কাউন্সেলিং
মঙ্গলবার থেকে যে কাউন্সেলিং হবে তা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্ধারিত তালিকা মেনেই হবে। সে ক্ষেত্রে স্কুলগুলির একাদশ–দ্বাদশ ও নবম–দশমের বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলি আগাম বা পূর্ব–নির্ধারিত সাধারণ, এসসি, ওবিসি এবং ইডব্লিউএস প্রার্থীদের জন্যে সংরক্ষণ থাকছে না। এর ফলে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির প্রার্থীরা ‘ওপেন কাউন্সেলিংয়ে’র সুযোগ পাবেন। জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের বদলে মেধার ভিত্তিতে এই সুযোগ নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “এই পদ্ধতিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।” অর্থাৎ CML অনুযায়ী, সাধারণ বিভাগের পুরুষ প্রার্থীরা শুধু বালক এবং সহ-পাঠক্রমিক বিদ্যালয়গুলি বেছে নিতে পারবনে। একই ভাবে মহিলা প্রার্থীরা সহ-পাঠক্রমিক বিদ্যালয়গুলির পাশাপাশি বেছে নিতে পারবেন বালিকা বিদ্যালয়ও।
আরও পড়ুন: উচ্চমাধ্যমিকে উঠে যাবে সেমিস্টার প্রথা? শিক্ষা সংসদের কাছে গেল চিঠি
প্রসঙ্গত, সামনেই যেহেতু বিধানসভা নির্বাচন, তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে আর দেরি করতে চাইছে না স্কুল সার্ভিস কমিশন। গত বছরের নিয়োগ জট কাটিয়ে এবার দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে কমিশন। এপ্রিলের আগেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়, যাতে বিধানসভা নির্বাচনের কোনো প্রভাব এই প্রক্রিয়ায় না পরে। যদিও রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন কবে সেই নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট নির্দেশ আসেনি, তবে আগামী মাস অর্থাৎ মার্চের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আনা হবে।












