বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে লক্ষীর ভান্ডার সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পে বিশেষ নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাংলার নারীদের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাসিক ভাতা 500 টাকা করে বাড়ানো হয়েছে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে। সেই সাথে বেতন বেড়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে বাংলার আশা কর্মী এমনকি ICDS কর্মীদেরও। ওদিকে যুবসাথী, ভূমিহীন ক্ষেতমজুরের মতো একাধিক নতুন প্রকল্প চালু করে তাক লাগিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে কেন্দ্রের চাপ সত্ত্বেও বাড়েনি বার্ধক্য ভাতার (Old Age Pension) অঙ্ক। ভোটের আগে সেই ভাতার পরিমাণ বাড়তে পারে?
1000 টাকা থেকে 1500 টাকা হতে পারে বার্ধক্য ভাতা?
কেন্দ্রের কাছে বর্তমানে রাজ্যের পাওনা অর্থের পরিমাণ ছাড়িয়েছে 1 লাখ 70 হাজার কোটি টাকা। সেই অর্থ মেটানোর নামগন্ধ নেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের। তার উপর রাজ্যকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত করে রেখেছে বিজেপির ক্ষমতাধিন সরকার, এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে রাজ্যের বকেয়া অর্থ আটকে রেখেও বাংলার প্রবীণ নাগরিকদের বার্ধক্য ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিগত দিনগুলিতে, সামাজিক সুরক্ষার নামে বিভিন্ন দায়ভার রাজ্যের কাঁধে চাপিয়ে বিজেপি সরকার স্পষ্ট বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ নাগরিকদের বার্ধক্য ভাতা 1000 টাকা থেকে বাড়িয়ে 1500 টাকা করা হোক। সেই চাপ মাথায় নিয়েই এগোচ্ছে মমতা সরকার। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ঢালতে সমস্যা নেই সরকারের। ইতিমধ্যেই বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রত্যেক প্রবীর নাগরিককে মাসে 1000 টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। তবে, বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সাহায্য প্রয়োজন। সেসব নিয়ে কোনও চিন্তাই নেই মোদি সরকারের। বরং নাকি দিনদিন বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে নিজেদের অবদান কমাচ্ছে তারা।
অবশ্যই পড়ুন: খেলা শেষে ইংরেজ ভক্তের সাথে অভদ্রতামি! হেরে গিয়ে মাঠেই বচসা পাকিস্তানির
একদিকে বার্ধক্য ভাতার অঙ্ক বাড়াতে যেমন রাজ্যকে চাপ দিচ্ছে দিল্লি, ঠিক উল্টোদিকে সেই ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের আর্থিক সাহায্য কতটা প্রয়োজন তা বুঝিয়ে কেন্দ্রের কোটে বল ঠেলেছে রাজ্য। সবমিলিয়ে, রাজ্যের বয়স্ক নাগরিকদের বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি একপ্রকার আটকে রয়েছে রাজ্য এবং কেন্দ্র সংঘাতের মাঝে। যদিও কিছু সুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হয়তো বার্ধক্য ভাতা নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেও করতে পারে রাজ্য সরকার। যদিও এ নিয়ে নবান্নের তরফে কোনও সু স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।












