বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠেছে কার্যত গোটা বিশ্ব। আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে স্বার্থ রক্ষার্থে এই ভয়াবহ সংঘাতে নেমে পড়তে পারে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিও। ঠিক এমন আশঙ্কার মধ্যেই প্রতিরক্ষা খাতে বিশেষ নজর দিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতে আধুনিক যুদ্ধে যাতে সেনাবাহিনীকে দ্বিতীয় চিন্তা করতে না হয় সেজন্যই গোপনে বিশেষ ড্রোন সিস্টেম (Sheshnag 150) তৈরি করছে নয়া দিল্লি। যা চোখের পলকে শত্রুকে পুড়িয়ে খাক করবে। হ্যাঁ, আকাশে ভারতের রক্ষাকবচ হবে এমন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মারণ ড্রোন সিস্টেম শেষনাগ 150 তৈরিতে কোমর বেঁধেছে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।
শেষনাগ 150 এর ক্ষমতা সম্পর্কে জানুন
মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যে নিজের আখের গোছাতে একটুও ভুল করছে না ভারত। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা গোপনে যে শেষনাগ 150 নামক নতুন ড্রোন সিস্টেম তৈরি করছেন সেটি ভারতের আকাশে উড়ে শত্রুর গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে সক্ষম। বলাই বাহুল্য, পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী বহু পুরনো শক্তিশালী সাপ শেষনাগের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ ড্রোন সিস্টেমটি। তাই এর নামকরণও করা হয়েছে সেই শক্তিশালী সাপটির নামে। এক কথায়, শেষনাগের মতোই অপরাজেয় শক্তির প্রতীক হবে এই ড্রোন সিস্টেম।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যেসব যুদ্ধ হয়েছে তাতে বড় ভূমিকা ছিল ড্রোনের। শুধুমাত্র নজরদারি নয় বরং সরাসরি শত্রুর ঘাঁটিতে হামলা চালাতে সিদ্ধ অস্ত্র এই খুদে দস্যু। গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন তার প্রমাণ পেয়েছে ভারতও। তাছাড়াও ভবিষ্যতের আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের যে বিকল্প হবে না সে কথা ভাল ভাবেই বুঝেছে নয়া দিল্লি। তাই বর্তমান যুদ্ধ আবহে জোর কলমে চলছে শেষনাগের প্রস্তুতি।
EXCLUSIVE ⚠️
India Quietly Moves Forward With Homegrown Sheshnaag-150 Low Cost Attack Drone As US & Iran Deploy Similar Drones In Ongoing War https://t.co/rxDxe1kmqb
— Shiv Aroor (@ShivAroor) March 3, 2026
অবশ্যই পড়ুন: সেমিতে তৈরি হবে ইতিহাস, কপিল-হরভজনদের রেকর্ডে ভাগ বসাতে চলেছেন বুমরাহ
না বললেই নয়, ভারতের হাতে তৈরি হতে যাওয়া নতুন শেষনাগ 150 ড্রোন সিস্টেমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সেন্সর যুক্ত এবং এর সহনশীলতা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ড্রোন যেমন শত্রুদের উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সেই তথ্য সেনাবাহিনীকে পাঠাতে পারবে তেমনই একসাথে 150 কেজি ওজন বহন করে শত্রুর ডেরায় হামলা চালাতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ড্রোন অধিক উচ্চতায় উড়তে পারার কারণে এটিকে বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল অর্থাৎ লাদাখ বা অরুনাচলের পাহাড়ি বা পার্বত্য এলাকায় কাজে লাগানো যেতে পারে।
কমবেশি প্রায় সকলেই জানে, এই মুহূর্তে ইরান নিজেদের শক্তিশালী ড্রোন সিস্টেম ব্যবহার করে ইজরায়েল সহ আরব দেশগুলিতে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিতে জোরালো হামলা চালাচ্ছে। ফলে, সময়ের সাথে সাথে ড্রোন সিস্টেমের গুরুত্ব বাড়ছে লাফিয়ে। সেই সবটা বুঝেই আধুনিক যুদ্ধের জন্য নিজেদের পুরোপুরি তৈরি রাখতে চাইছে ভারতও। ভবিষ্যতে যাতে শত্রুর সামনে দুর্বল হয়ে না পড়তে হয়, সেজন্যেই আগে থেকে নিজেদের অস্ত্রাগারে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ভয়ানক সব ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করতে চায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।












