সহেলি মিত্র, কলকাতা: একদিকে যখন বকেয়া ডিএ (Dearness allowance), পেনশন নিয়ে আন্দোলন চলছে বাংলার সরকারি কর্মীদের। তখন অন্যদিকে বলা হল, নাকি এসবের পাশাপাশি এবার মাইনেটাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে! শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। আর ফেসবুক লাইভে এসে ঠিক এমনই মন্তব্য করে সকলের চিন্তা বাড়িয়েছেন বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। চলুন তিনি কী বলেছেন সেটা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
DA, পেনশন, মাইনে সব বন্ধ হয়ে যাবে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানান, ‘কলেজগুলিতে শিক্ষা কর্মীদের পাওনা টাকা দেওয়া হচ্ছে না। স্যার, ম্যাডামদের দৈনন্দিন ক্লাসের টাকা অবধি দেওয়া হচ্ছে না। কম্পোজিট গ্রান্ট স্কুলগুলিতে পৌঁছাচ্ছে না। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ অবধি প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মীদের বেতন পাননি। সরকার ক্রমাগত দেউলিয়া হয়ে যেতে চলেছে। আগামী ৬ মার্চ অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার জানা যাবে সরকারকে কত কিস্তিতে টাকা মেটাতে হবে কর্মীদের। এই দিনটার অপেক্ষা করছেন সকলে।’
আরও পড়ুনঃ ১৫ মার্চই শেষ হবে ডেটা এন্ট্রি, কবে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা? যুবসাথী নিয়ে বড় খবর
বকেয়া DA প্রসঙ্গে বিশ্বনাথবাবু জানান, ‘ডিএ-টা বড় কথা নয়, একটা সময়ে যদি মূল বেতনটাই না পাওয়া যায়! একবার ভাবুন আপনি লড়াই করছেন ডিএ-র জন্য। আমাদের কোষাগার, এমন হচ্ছে না তো নির্বাচনের পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার মতো জায়গায় থাকবে না সরকার! খবর বিভিন্নভাবে বুঝতে পারা যায়, সেটা হল, বেতন দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। ডিএ তো অনেক দূরের কথা, ডিএ আপনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও পাননি। আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। কবে শুনানি হবে, কিভাবে হবে, আদৌ হবে কিনা কেউ জানেন না।’
আরও পড়ুনঃ এক্সট্রা বোনাস, এই কর্মীরা পাবে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা! বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নর
বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাল বেহাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী আগে জানান, ‘ডিএ সরকার দেবে না এটা আগেও বলেছিলাম। নানা অজুহাত দেবে এই সরকার। ভাবলে খারাপ লাগে অন্যান্য রাজ্যের কর্মীদের থেকে আমরা কত কম টাকা পাই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ডিএ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা আতঙ্কিত। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন, এই নির্বাচনের পর সরকারের যে আর্থিক অবস্থা তৈরি হবে, তাতে বিশেষ করে শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা কর্মী তাঁদের বেতনটা নিয়মিত হবে তো? যারা অধ্যাপক আছেন, কোথাও যদি গেস্ট প্রফেসর থাকে তাঁদের অনুদান এখন অনেকটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চলবে কীভাবে? প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নেই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হচ্ছে কোর্স কমপ্লিট করার জন্য গেস্ট অধ্যাপক রাখতে।’ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বেকার ভাতা দেওয়ার জন্য সরকার যে পরিমাণে ঋণ নিচ্ছে হাত গুটিয়ে নেবে না তো সরকার? আশঙ্কায় ভুগছেন সরকারি কর্মীরা। বাকিটা শুনে নিন ভিডিওতে…












