টিম ইন্ডিয়ার লজ্জা লাগা উচিৎ! বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মন্দিরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ কীর্তি আজাদ

Published:

T20 World Cup Trophy

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রবিবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল ভারত, খুশিতে মাতোয়ারা হয়ে গিয়েছিল গোটা টিম। এরপর ট্রফি (T20 World Cup Trophy) জিতেই সেখানকার হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে গেলেন টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। আর তাতেই রেগে কাঁই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ। প্রশ্ন তুললেন, মহম্মদ সিরাজ তো মসজিদে কিংবা সঞ্জু স্যামসন তো চার্চে নিয়ে যাননি বিশ্বকাপ ট্রফি। তাহলে কেন সেই বিশ্বকাপ ট্রফিকে হনুমান মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হল।

হনুমান মন্দিরে ট্রফি নিয়ে পুজো দিলেন গম্ভীর

ভারতীয় ক্রিকেট টিমের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর খেলার প্রতি তাঁর যেমন কড়াকড়ি রয়েছে ঠিক তেমনই তাঁর নিয়মিত পুজো দেওয়ার ট্রাডিশনও বেশ চর্চিত। ভারতের বিভিন্ন জাগ্রত মন্দিরে, গম্ভীর নিয়ম করে পুজো-আচ্চা দেন। তাইতো বিশ্বকাপ জয়ের পর রবিবার রাতেও ট্রফি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের পাশেই হনুমান টেকরি মন্দিরে পুজো দিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রসাদ খান তাঁরা। বাইরে এসে ছবিও তোলেন। কিন্তু এবার সেই পুজো দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ।

ধর্ম নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সাংসদ

গতকাল অর্থাৎ সোমবার, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, ‘টিম ইন্ডিয়ার লজ্জা লাগা উচিত। ১৯৮৩ সালে যখন আমরা কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, তখন আমাদের দলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ এবং খ্রিস্টান ছিলেন। আমাদের ধর্মীয় জন্মভূমি, আমাদের মাতৃভূমি, ভারত, হিন্দুস্তানে নিয়ে এসেছিলাম ট্রফি। কিন্তু এবার সেই ট্রফি কেন শুধু হনুমান মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হল? কেন মসজিদ নয়? কেন গির্জা নয়? কেন গুরুদোয়ারা নয়?” এখানেই শেষ নয়, এদিন তিনি সূর্যকুমার যাদব এবং আইসিসির প্রধান জয় শাহের পরিবারকেও তুলোধোনা করেন। কীর্তি আজাদ বলেন, “দলটি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে – সূর্যকুমার যাদব বা জয় শাহের পরিবারের নয়! সিরাজ কখনও মসজিদে ট্রফি নেয়নি। সঞ্জু কখনও চার্চে নিয়ে যায়নি। ট্রফি ১৪০ কোটি ভারতীয়ের, প্রতিটি ধর্মের মানুষের – কোনও ধর্মের নয়।’

আরও পড়ুন: দাম বৃদ্ধি তো ছিলই, এখন অমিল গ্যাস! LPG সঙ্কটে শহরের সমস্ত হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত

প্রসঙ্গত, ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার পর থেকেই দেখা যায় গৌতম গম্ভীর যেখানেই খেলা থাকুক, সেখানকার স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে চলে যান। কখনও কলকাতার কালীঘাটে, কখনও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে, কখনও গুয়াহাটির কামাখ্যা, আবার কখনও মুম্বইয়ের সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরে দেখা যায় গম্ভীরকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। এদিকে, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদের তোলা মন্তব্যকে নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি দলের তরফে।

🔮
মাত্র ২১ টাকায় নিজেরবাংলা কুষ্ঠি তৈরি করুন
দেখুন →
google button