প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: LPG বা রান্নার গ্যাসের সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হতে উঠেছে গোটা দেশ জুড়ে। বাণিজ্যিক গ্যাসের আকালে (LPG Cylinders Shortage) কলকাতার একাধিক জেলার ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁর মালিক কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন তবে কেউ আবার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাড়ির সিলিন্ডার এনে রান্না করছেন। আর এবার হাসপাতালে (Government Hospital) রোগীর পরিবারের জন্য এল বড় দুঃসংবাদ, জানা গিয়েছে আর নাকি পাওয়া যাবে না বিনামূল্যে রুটি সবজি।
বন্ধ বিনামূল্যে রুটি সবজি
কলকাতার বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ গুলি-সহ মোট দশটি সরকারি হাসপাতালের সামনে মা ক্যান্টিনে প্রতিদিন প্রায় হাজার পাঁচেক রোগীর পরিবারকে বিনামূল্যে রুটি সবজি এবং ডিম সেদ্ধ খাওয়ানো হয়ে থাকে। যাঁদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ, তাঁরা এই পরিষেবায় বেশ সন্তুষ্ট। কিন্তু LPG সংকটে এবার সেই পরিষেবায় কোপ পড়ল। বন্ধ হয়ে যেতে পারে বিনামূল্যে এই খাবার। এদিকে এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতালের এই মা ক্যান্টিনে প্রতিদিন ৫ টাকার পরিবর্তে পেট ভরা খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু গ্যাসের সংকটে সকলের চোখে মুখে চিন্তা দেখা যাচ্ছে। যদিও এই ক্যান্টিন চলবেই বলে আশাবাদী কর্মীরা।
ভোগের রান্নাও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে
মা ক্যান্টিনে কর্মরত কর্মীরা জানিয়েছেন, রোগীর আত্মীয়রাও এই খাবারের ওপর নির্ভরশীল। এখনও পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ ঠিক আছে। তবে আগামী দিনে কি হবে তা জানা নেই কারোর। এদিকে রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যা দেখা গিয়েছে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে। কয়েক মাস আগে মন্দিরে ভোগ বিতরণ শুরু করা হয়েছিল। কুপন কেটে সকাল, দুপুর এবং রাতে ভোগ পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল ভক্তদের। প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ মানুষের জন্য রান্না হয়। তার জন্য প্রতিদিন ১০টি করে কমার্শিয়াল সিলিন্ডার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এখন যেহেতু সিলিন্ডারের সমস্যা তাই ভক্তদের জন্য ভোগ রান্না কমিয়ে দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। এখন মাত্র ৭৫০ জনের আয়োজন করা হচ্ছে।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও অন্যতম ট্রাস্টি রাধারমণ দাস বলেন, ‘এখন সিলিন্ডার পেতে সমস্যা হচ্ছে। তাই ভক্তদের জন্য ভোগ রান্না কমিয়ে দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। যে গ্যাস সিলিন্ডার আমাদের হাতে আছে, তা দিয়ে কিছুদিন টানা যেতে পারে। আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি, যাতে গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত পাওয়া যায়। তবে এমন অবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে কাঠ, ঘুঁটে বা অন্য কোনো বিকল্পের আশ্রয় নিতে হবে।”












