প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে সমস্ত দলগুলির মধ্যে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই অবস্থায় আজ ফের ডিএ ইস্যুতে ধর্মঘটের (DA Strike) ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে এব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য নোটিস দিল নবান্ন (Nabanna)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে, উল্টে কেউ যদি ধর্মঘটের জন্য ছুটি নেন তাহলে সেই দিনের বেতন কাটা হবে তাঁর।
ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মামলার রায় কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানানো হয়েছিল, ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের জানানো আর্জিতে হতাশ সরকারি কর্মীরা। আর তারই প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু DA আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নোটিস দিল নবান্ন।
নোটিসে কী জানিয়েছে প্রশাসন?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে। যদি কোনও কর্মী চিকিৎসাধীন কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে নেওয়া ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। তবে যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে। সেক্ষেত্রে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।এমনকি নোটিসের জবাব যদি না দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন: দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের
প্রসঙ্গত, যে কোনও ধর্মঘটের ক্ষেত্রে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদল বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনরকম ধর্মঘট ও আন্দোলন আপোস করতে চান না তিনি। তাই এবারেও কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে করা অবস্থান নিলেন। তবে নাছোড়বান্দা কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, যে করেই হোক আন্দোলন করে ছাড়বে। এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টে আইন মেনে চলে। তবে বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ। এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”












