সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকালই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) অফিশিয়াল ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি তা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটও আপলোড করা হয়েছে। সেখানে ইংরেজি এবং বাংলা দুটি ভাষাতেই ফর্ম মিলছে। তবে সমস্যা হচ্ছে একটাই, ১৩ পাতার এই ফর্মে চাওয়া হচ্ছে বংশের পরিচয়! হ্যাঁ, শুধুমাত্র আবেদনকারী নয়, বরং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত বিবরণও চাওয়া হচ্ছে।
ফর্ম খুললেই আমরা দেখতে পাবো, তাতে পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, উপার্জনের মাধ্যম, কোন কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, কোনও সরকারি চাকরি করেন কিনা, পেনশন পান কিনা, অন্য কোনও প্রকল্প থেকে টাকা নিচ্ছেন কিনা, কোনও পদে যুক্ত রয়েছেন কিনা, স্বাস্থ্য বীমা বা আয়কর দেন কিনা, ইত্যাদি প্রচুর তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। এমনকি পরিবারে কতজন সদস্য, কীরকম বাড়ি, গাড়ি আছে কিনা, জমি আছে কিনা, ইত্যাদি তথ্য দিয়েই পূরণ করতে হব ওই ফর্ম।
কেন এত তথ্য জানতে চাইছে সরকার?
আসলে রাজ্য সরকারের এরকম কোনও ভাবনা নেই যে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে না বলেই এত বাড়তি তথ্য চাওয়া হচ্ছে। গতকাল সাংবাদিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, “আমরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩০০০ টাকা প্রত্যেক মা-বোনকে দিতে চাই, এবং আমরা প্রত্যেক উপভোক্তা থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে চাই। কারণ, রাজ্য আর কেন্দ্রের বিভিন্ন স্কিমগুলি এবার প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে পায় সেই ব্যবস্থাই করতে চাইছি।”
লক্ষীর ভাণ্ডারের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, “পুরুষ হয়েও তৎকালীন মমতা ব্যানার্জির সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিল এরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে। এমনকি প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা গিয়েছে যারা আদৌ এই প্রকল্পর জন্য যোগ্য নয়। তাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আমরা একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি, এবং সমস্ত তথ্য যাচাই করেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাঠানো হবে। যদি কেউ যোগ্য না হয় তাহলে সে এই প্রকল্পের টাকা পাবে না।”
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা! কত? জানাল মেটা
তবে রাজ্যের সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন যে, “চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আমরা ফর্ম ফিলাপ করতে সহযোগিতা করব।” তিনি বলেছেন, “এই ফর্মে অনেকগুলি তথ্য চাওয়া হয়েছে যেগুলো অনেক সাধারণ মানুষের পক্ষে পূরণ করা কঠিন। তাই আমরা বিধায়ক থেকে শুরু করে বিডিও অফিসের কার্যকর্তাদের বলব সাহায্য করতে। বিধায়কদের এটা একটা বড় কাজ। তাঁরা বিডিওর সঙ্গে ভার্চুয়াল কর্মসূচি করবে। আর ১৫ থেকে ১৭টি জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করা হবে।”










