বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দারিদ্রতা যে ইচ্ছে শক্তিকে ছাপিয়ে যেতে পারে না সেটা আবারও প্রমাণ করে দেখালেন গুজরাতের উদীয়মান স্প্রিন্টার কাজল ভাজা (Kajal Vaja)। ফের নিজের তীব্র ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম দিয়ে রবিবার হংকং এ অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া 22তম এশিয়ান অনূর্ধ্ব 20 অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের বিভাগে 400 মিটার রিলে ভারতের হয়ে রুপোর পদক জিতেছেন 19 বছর বয়সি কৃষক কন্যা। যদিও দলগতভাবে এই রুপোর পদক জিতেছেন কাজলরা।
সঙ্গবদ্ধ লড়াইতেই এল সাফল্য
দীর্ঘ লড়াই করে একের পর ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত হংকংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান অনূর্ধ্ব 20 অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মেয়েরা। সেখানে 45.4 সেকেন্ডে নিজেদের জয় নিশ্চিত করেই রুপোর পদক ঘরে তুলেছে ভারতের নারীরা। আর এই জয়ে অন্যতম প্রধান অবদান রয়েছে কাজলের। বলাই বাহুল্য, রুপোর পদক জেতার সাথে সাথে অনূর্ধ 20 বিভাগে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ল কাজলদের দল। আসলে এর আগে 45.08 সেকেন্ড সময় নিয়ে 400 মিটারের দৌড় সম্পন্ন করেছিল ভারতীয় দল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন কাজলরা।
অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কাজল
অনেকেই জানেন না, কাজল ভাজার বাবা হিরবাই ভাজা জুনাগড় জেলার সমুদ্র সংলগ্ন চরওয়াদ গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। মূলত কৃষিকাজ করেই পেট চলে কাজলদের। ফলে ছোটবেলা থেকেই অভাব কী জিনিস বুঝেছেন ভারতের এই ধন্যী মেয়ে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাবার সহযোগিতায় স্পিন্টার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি। সে জন্য অবশ্য বহু স্বপ্ন ত্যাগ করতে হয়েছে কাজল এবং তাঁর পরিবারকে।
না বললেই নয়, নিজের ক্রীড়া ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করার জন্য ক্লাস 12 এ এক বছরের ড্রপ দিয়েছিলেন কাজল। ঠিক করেছিলেন, এই সময় লেখাপড়া থেকে নিজেকে দূরে রেখে ক্রীড়া ক্ষেত্রে পুরোপুরি মনোনিবেশ করবেন। শেষ পর্যন্ত সেই কাজের ফল পেয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে জিতিয়ে রুপো ঘরে এনেছেন কৃষকের মেয়ে। তাতে গর্বিত কাজলের পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনরা।
PHOTO | Hong Kong, China: A drop year from Class 12, countless hours on the track, and an unwavering belief in her dream have brought Gujarat’s Kajal Vaja to the continental podium. The 19-year-old sprinter from Chorwad, Junagadh, helped India clinch silver in the women’s 4x100m… pic.twitter.com/Py978hheaD
— Press Trust of India (@PTI_News) May 31, 2026
অবশ্যই পড়ুন: ফের ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় শেয়ারবাজার, বিনিয়োগকারীদের লাভ ৩.১৫ লক্ষ কোটি
সম্প্রতি কাজলের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, “স্কুলের দিনগুলোতে ওর খেলাধুলার প্রতি বেশি ঝোঁক ছিল। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পারফর্ম করত ও।” ভারতীয় দলকে সফল করার পরই কাজলের কোচ শিবম উপাধ্যায় বলেন, “দীর্ঘ পরিশ্রম এবং শেষে সাফল্য অর্জনের জন্য কাজলকে অনেক অনেক অভিনন্দন। কাজল দেশের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণী স্প্রিন্টারদের একজন।” বলা বাহুল্য, এই সাফল্যের পাশাপাশি 100 মিটার, 200 মিটার সহ বিভিন্ন রিলে বহু পদক জিতেছেন কাজল ভাজা। এর আগে গত বছর রাঁচিতে অনুষ্ঠিত এশীয় সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে 400 মিটার রিলে দৌড়ে রূপো জিতেছিলেন তিনি। এছাড়াও 60 মিটার ইভেন্টে অনূর্ধ্ব 20 বিভাগের জাতীয় রেকর্ডও রয়েছে কাজলের নামে।










