স্কুল শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন করলেই কড়া ব্যবস্থা, নোটিশ শিক্ষা দপ্তরের তরফে

Published:

School Teacher Tution

সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষকরা (School Teacher) কোনোভাবেই গৃহ-শিক্ষকতার (Private Tutor) সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না বলে কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর । যদিও এনিয়ম নতুন নয়, তবু রাইট টু এডুকেশন (RTE) আইন ও কলকাতা হাইকোর্টের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনেক স্কুল শিক্ষকই প্রাইভেট টিউশনির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সমস্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। 

স্কুল শিক্ষকরা গৃহ শিক্ষকতা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে রাজ্যে

বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) সম্প্রতি এই বিষয়টি অবগত করিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে। এই নোটিশে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। নোটিশে বলা হয়েছে যে, এমন অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তাদের কাছে প্রাইভেট টিউশন পড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যথায় পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয় শিক্ষার্থীদের। এই পরিস্থিতি সাধারণ গৃহশিক্ষকদের উপার্জনে যেমন বাধা সৃষ্টি করছে, তেমনি শিক্ষাধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্যকেই লঙ্ঘন করছে। 

এমতাবস্থায় বিকাশ ভবনের এডমিন সেকশন থেকে  বৃহস্পতিবার (৪ জুন) একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে সরকারের আইনি অবস্থান। নোটিশ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনে উল্লেখ করা রয়েছে যে, কোনও কর্মরত শিক্ষক গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। এরপর ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির একটি বিজ্ঞপ্তি এবং ২০১৮ সালের স্কুল শিক্ষা দফতরের নোটিশে একই মর্মে শিক্ষকদের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়। কিন্তু এরপরও বদলায়নি পরিস্থিতি। স্কুল টিচারদের গৃহশিক্ষকতা করার প্রবণতা এখনও বিদ্যমান। 

সাম্প্রতিক নির্দেশিকাটি রাজ্য স্কুল দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেলার প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের পরিদর্শকদের পাঠিয়েছেন। নোটিশে কড়াভাবে বলা আছে, যদি কোনও স্কুলশিক্ষক প্রাইভেট টিউশন করাতে গিয়ে ধরা পড়েন, তাহলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্দেশিকার কপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মুখ্য সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।