অনন্যা সরকার, কলকাতা: নেটওয়ার্থের বিচারে এবার মুকেশ আম্বানিকে (Mukesh Ambani) ছাড়িয়ে গেলেন টিকটক (TikTok)-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের (ByteDance) প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং (Zhang Yiming)। ৪৩ বছর বয়সী এই চীনা উদ্যোক্তা এখন এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি খেতাব লাভ করেছেন, যে স্থানটি এর আগে দখল করেছিলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মুকেশ আম্বানি। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স (Bloomberg Billionaires Index) অনুযায়ী, ঝাং ইমিং-এর বর্তমান নেটওয়ার্থ এখন ৯২.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা তাকে এশিয়ার দ্বিতীয় ও চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। যেখানে মুকেশ আম্বানির সমগ্র সম্পত্তির মূল্য ৮৬.৯ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে এনেছে। তবে প্রথম স্থানটি (Asia’s Richest Person) এখনো ধরে রেখেছেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani), যার নেটওয়ার্থ ১১৭.৪ বিলিয়ন ডলার।
কেমন করে সফলতার শিখরে পৌঁছলেন ঝাং ইমিং?
চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা এই উদ্যোগপতি চীনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তার সংস্থা, বাইটড্যান্স। বেইজিং-এ চালু হওয়া কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে কনটেন্ট রেকমেন্ডেশন টেকনোলজির দিকে মনোননিবেশ করলেও, পরবর্তীকালে ঝাইং ইমিং চালু করেন একটি নিউজ অ্যাগ্রিগেশন প্ল্যাটফর্ম। এটি ইউজারদের জন্য কনটেন্ট পার্সনালাইজ করতে এআই (AI)-এর ব্যবহার করতো। গত কয়েক বছর ধরে বাইটড্যান্স সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশন, এডুকেশন টেকনোলজি, গেমিং থেকে শুরু করে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ও এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের মতো একাধিক ক্ষেত্রে প্রসারিত হয়েছে।
বর্তমানে, বাইটড্যান্স টিকটক (TikTok), টুটিয়াও (Toutiao), ক্যাপকাট (CapCut), ডুইন (Douyin) সহ একাধিক এআই-চালিত পরিষেবার জন্য জনপ্রিয়। টিকটক শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সারা বিশ্বে খুবই জনপ্রিয়, অন্যদিকে, বাইটড্যান্সের এআই চ্যাটবট ডৌবাও (Doubao) চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটে পরিণত হয়েছে। এটি প্রতি মাসে ৩০ কোটিরও বেশি ইউজারকে পরিষেবা দিচ্ছে। এমনকি, বাইটড্যান্স এবছর চীনে এআই শিল্পে ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। কোম্পানিটি আমেরিকার বড় বড় এআই জায়েন্টগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
আরও পড়ুনঃ রেপো রেট ঘোষণা RBI-র, আপনার লোন ও EMI-তে কী প্রভাব পড়বে?
ঝাং ইমিং নেটওয়ার্থে ছাড়িয়ে গিয়েছেন মুকেশ আম্বানিকে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের নেটওয়ার্থ এখন ৮৬.৯ বিলিয়ন ডলার। তবে, ১১৭.৪ বিলিয়ন ডলারের সাথে আগামী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানি এখনও এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির শিরোপা ধরে রেখেছেন।










