অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশনের জন্য করা হচ্ছে ফোন, কী কী জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে? 

Published:

Annapurna Bhandar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে (Annapurna Bhandar) ভেরিফিকেশনের জন্য করা হচ্ছে ফোন। এমনকি ফর্মে যে সমস্ত তথ্য পূরণ করা হয়েছে তা পুনরায় জানতে চাওয়া হচ্ছে বলেই খবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো দুর্নীতি যেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে না হয়, প্রকৃত উপভোক্তারাই এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে পায় তা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। সেই কারণেই এবার করা হচ্ছে বাড়তি ভেরিফিকেশন।

পুরসভা থেকে আসছে ফোন

প্রসঙ্গত, সরকার গঠন করার পরেই একে একে প্রতিশ্রুতি পালন করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যারা জুন মাসের আগেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আবেদন করতে পেরেছেন, তাদেরকে জুন মাসের ৩ তারিখ থেকেই ৩০০০ টাকা করে দেওয়া শুরু হয়েছে। এমনকি প্রথম দিন ২৮ লক্ষ উপভোক্তাকে দেওয়া হয়েছে টাকা, আর দ্বিতীয় দিন মিলিয়ে সেই উপভোক্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ লক্ষ। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন

এই প্রকল্পে অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই চলছে আবেদন। অফলাইনে একটি ১৩ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। কিন্তু অনলাইনে অতটাও তথ্য দেওয়া লাগছে না। তবে অফলাইন ফর্মে উপভোক্তা থেকে শুরু করে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড সমস্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এমনকি ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পরেও বাড়তি ভেরিফিকেশনের জন্য পুরসভা থেকে করা হচ্ছে ফোন। কী জানতে চাওয়া হচ্ছে?

বেশ কয়েকজনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আমরা জানতে পেরেছি, এবার পুরভা থেকে ফোন করে সরাসরি জানতে চাওয়া হচ্ছে যে, সেই মহিলা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন কিনা, বর্তমানে কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত বা মাসিক ইনকাম কত, পরিবারের প্রধান কী কাজ করেন ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, বাড়িতে গাড়ি আছে কিনা, বাড়িতে কয়টি ঘর আছে, ইত্যাদি তথ্যও ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মতো দুর্নীতি যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে না হয় তার জন্য এই বাড়তি ভেরিফিকেশন, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন: গেফতারির ভয়ে FIR বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে অরূপ বিশ্বাস, বিচারপতি বললেন …

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গতকাল নিজেই বলেছেন যে, যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে সেখানেই পচা আর দুর্গন্ধ। আগের সরকার কী করে গিয়েছে! মোট ২ কোটি ১০ লক্ষ উপভোক্তা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন। তবে তার মধ্যে ৩০ লক্ষ ভুয়ো। এমনকি ৩ লক্ষ পুরুষ হয়েও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে এই সমস্ত দুর্নীতি রুখার জন্যই সরকারের কড়া পদক্ষেপ। তাই আপনি যদি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আবেদন করে থাকেন এবং আপনার কাছে যদি ফোন করে তথ্য জানতে চাওয়া হয়, তাহলে বিভ্রান্ত হবেন না। এটি যাচাই করার জন্যই শুধুমাত্র জানতে চাওয়া হচ্ছে। আর সঠিক তথ্য দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।