সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শেষমেষ এ কী হাল পুষ্পার! হাফ প্যান্ট আর টি-শার্ট পরিয়ে গোটা ফলতা ঘোরানো হচ্ছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan)। একেবারে চুপসে ফুঁস পুষ্পা! এমনিতেই গত পরশুদিন নেপাল সীমান্ত দিয়ে পালাতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। নির্বাচনের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। আর গতকাল তাঁকে তোলা হয় আদালতে, এবং আজ প্রকাশ্য রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছে ডায়মন্ড হারবার মডেলের কুখ্যাত এই নেতাকে।
ভাইরাল পুষ্পার ভিডিও
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, জাহাঙ্গীর খানের পরনে একটি হাফপ্যান্ট এবং হাফ টি-শার্ট। তাঁর চারপাশে টহল দিচ্ছে পুলিশ, এবং গোটা ফলতা বাজারে তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে। এমনকি তাঁর সেই ভিডিও দেখে নেট নাগরিকরা খিল্লি ওড়াতে ছাড়ছে না। একজন বলছে, “পুষ্পার পাশে এত পুলিশ এটাও ভাগ্যের ব্যাপার।” আরও একজন নেট নাগরিক মজা করে লিখেছেন, “ভোটের আগে যার এত দাপাদাপি ছিল, ভোটের পরেই সব দম ফুঁস!”
উল্লেখ্য, গতকাল ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয় জাহাঙ্গীর খানকে। কিন্তু বড় ব্যাপার, তাঁর হয়ে কোনও আইনজীবী লড়াই করতে চায়নি। ডায়মন্ড হারবার ক্রিমিনাল কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, জাহাঙ্গীর খান একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতী আর মানুষের অনেক ক্ষতি করেছে। সেই কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাঁর পক্ষে কোনও আইনজীবী লড়াই করবে না। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যয় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলি জামিন অযোগ্য।
আরও পড়ুন: এক ফোঁটাও জল যাবে না পাকিস্তানে! ভারতের ঘোষণায় শুকিয়ে মরার অবস্থা প্রতিবেশীর
আরও উল্লেখ করার বিষয়, ভোটের ফল প্রকাশ অর্থাৎ ৪ মে-র পরেই সমস্ত হম্বিতম্বি শেষ হয়েছিল তৃণমূলের এই দাপুটে নেতার। এমনিতেই এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে পুননির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয় ২১ মে। তবে তার আগেই নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন পুষ্পা। প্রত্যাশা মতোই বিজেপি ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোটে জয়লাভ করে এই কেন্দ্রে, এবং তৃণমূলের অবস্থান হয় একেবারে চার নম্বরে। আর নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূলের নেতা, কর্মী, কাউন্সিলরের জায়গা হচ্ছে লকআপে। সেই তালিকায় গত পরশুদিনই নাম লিখিয়েছেন জাহাঙ্গীর। আর আজ তাঁর বেহাল দশা করে ঘোরানো হল গোটা ফলতা বাজারে।










