সহেলি মিত্র, চুঁচুড়াঃ মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ শিরোধার্য। নিঃস্বার্থে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ফর্ম ফিলাপের জন্য এগিয়ে এলেন বিজেপি কর্মী। আসলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সূচনার দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, কোনও মহিলাকে ফর্ম ফিলাপের জন্য ছোটাছুটি করতে হবে না। বিজেপি কর্মীরাই বাড়িতে গিয়ে অথবা ক্যাম্প করে তাদের সাহায্য করবেন তাও আবার বিনামূল্যে। এই নির্দেশই অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন চুঁচুড়া বিধানসভার একনিষ্ঠ বিজেপি কর্মী বৈশাখী মণ্ডল।
কন্যা সন্তানকে রেখে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ করছেন বৈশাখী
বছর ৩০ এর এই বিজেপি কর্মী নিজের ৪ বছরের কন্যা সন্তানকে অন্যের ভরসায় রেখে সারাদিনরাত এক করে ছুটছেন এলাকার মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ করার জন্য। কখনও নিজের বাড়িতে, কখনও পাড়ার মোড়ে আবার কখনও এলাকার মহিলাদের বাড়িতে গিয়ে নিজে থেকে ফর্ম ফিলাপ করে আসছেন বৈশাখী মণ্ডল।
তিনি জানান, সকালে বাড়ির কিছু কাজ করে ১১টা নাগাদ বেরোচ্ছি এরপর থেকেই শুরু হচ্ছে যুদ্ধ। কোনদিন রাত ১০ আবার কোনদিন রাত ১২টা বেজে যাচ্ছে। মেয়েকে মা সামলাচ্ছে। ওদিকে বেসরকারি কর্মী স্বামীও এই বিষয়ে তাঁকে সহযোগিতা না করতে পারলেও, উৎসাহ দিয়ে চলেছেন বলে জানান বৈশাখী। তিনি এও জানান যে, যেসব বাড়িতে ফর্ম ফিলাপ করতে যাচ্ছেন, তারাই কখনও চা-বিস্কুট, চপ-মুরি দিচ্ছেন তা খেয়ে অন্তত পেটটা শান্তি পাচ্ছে। তবে বৈশাখী এই কাজে একা নন, তিনি জানান তাঁর সাথে ৩ নং ওয়ার্ডের শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ সুখেন পাল, বুথ সভাপতি সন্দীপ সিনহা, মানব দাস, শঙ্কর, রবিন সেন, মৌমিতা বিশ্বাস, রুনু বর্মণরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে গিয়েছেন। তিনি জানান, এরা না থাকলে আজ অনেক মহিলাই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হত, আমরা খুশি যে সবাইকে সরকারের প্রকল্পের সুবিধা দিতে পারছি।
বিজেপি কর্মী বৈশাখী মণ্ডল জানান, ‘বিজেপি নিজেদের সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করেছে। জুন মাসের ৩ তারিখ থেকেই রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ করে টাকা ট্রান্সফার করেছে। এতে রাজ্যের সব শ্রেণির মহিলারাই খুশি। আর আমার উদ্দেশ্য এখানকার মহিলারা যেন এই জনমুখি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হয়, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়। তাই আমি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই বিনামূল্যে মহিলাদের ফর্ম ফিলাপ করছি।’
বৈশাখীর ওয়ার্ডেই সবথেকে বেশি ফর্ম জমা
চুঁচুড়া বিধানসভার সাহাগঞ্জের ৩ নং ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালাচ্ছেন বিজেপি কর্মী বৈশাখী মণ্ডল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে, তাঁর ফিলাপ করা ফর্মের প্রায় সবাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা পেয়েছেন প্রথম কিস্তিতেই। বৈশাখী জানান, যেই ফর্মগুলো ফিলাপ হচ্ছে তা বিধায়ক সুবীর নাগের মাধ্যমে জমা হচ্ছে। তিনিও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই কাজ সম্পন্ন করাচ্ছেন। বর্তমানে এখন কিছু মানুষের ফর্মের ভেরিফিকেশন হচ্ছে চুঁচুড়া পুরসভায়, তাদের টাকাও খুব শীঘ্রই অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।
আরও পড়ুনঃ বদলে গেল নিয়ম! বাংলার স্কুলগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশ রাজ্য সরকারের
ওদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুঁচুড়া পুরসভার এক কর্মী জানান, ৩ নং ওয়ার্ড থেকেই সবথেকে বেশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম জমা পড়েছে। এরপর ৮ নং ওয়ার্ড, ৬ নং ও ৫ নং ওয়ার্ড রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি ভেরিফিকেশন করার যাতে মহিলারা তাড়াতাড়ি টাকা পেয়ে যান।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপের জন্য বড় উদ্যোগ নিচ্ছেন চুঁচুড়ার বিধায়ক
ওদিকে চুঁচুড়া বিধানসভার বিজেপির বিধায়কের তরফ থেকেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ফর্ম ফিলাপ কাজ যাতে দ্রুত ও সুষ্ঠু ভাবে হয়, তার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিধায়ক বিজেপির কার্যালয় থেকে ফর্ম বিতরণ থেকে শুরু করে বাকি কর্মীদেরও উৎসাহিত করছে এই কাজের জন্য। এছাড়াও হুগলী সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জিও মহিলাদের প্রাপ্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাইয়ে দেওয়ার জন্য জেলার সমস্ত বিজেপি নেতা, কর্মীদের সহযোগিতার জন্য যা যা করার দরকার, তাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। সবে মিলে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে দ্রুত গতিতেই চলছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কাজ।










