প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মদ খেয়ে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছেন তৃণমূল (All India Trinamool Congress) পঞ্চায়েত প্রধান! ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া (Bankura) জেলার ছাতনার ঝুঁঞ্জকা গ্রামে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে নিজের অফিস রুমেই প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছটফট করছেন তিনি। শেষে পুলিশ গিয়ে ওই প্রধানকে হাতে ধরে তাঁকে অফিস থেকে বের করে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করে। ঘটনাকে ঘরে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে।
মদ্যপ অবস্থায় বেহুঁশ প্রধান
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকার একটি টিউবওয়েল মেরামতির জন্য পঞ্চায়েত অফিসে যান বাঁকুড়া জেলার ছাতনার ঝুঁঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই সময়ে তাঁরা দেখেন নিজের অফিস রুমের মেঝেতে মদ খেয়ে অচৈতন্য অবস্থায় লুটোপুটি খাচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান রামেশ্বর হেমব্রম। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের মানুষ জমায়েত করে ওই পঞ্চায়েতের বাইরে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল পঞ্চায়েত প্রধানের মাটিতে লুটোপুটি খাওয়ার ভিডিয়ো।
ভাইরাল ভিডিও
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চায়েত প্রধান রামেশ্বর হেমব্রম আকণ্ঠ মদ্যপান করেই ওই অবস্থায় পড়েছিলেন। কোনো নিয়ম সে মানেন না। গ্রামের মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের জন্য প্রতিদিনই পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে সই-এর জন্য আসছেন। তবে প্রতি দিন ওই প্রধানের দেখা পাওয়া যায় না বলেও তাঁদের অভিযোগ। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নেশায় তিনি এতটাই বুদ ছিলেন যে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। এমনকি নিজের চেয়ারেও বসে থাকতে পারছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে ওই প্রধানকে হাতে ধরে তাঁকে অফিস থেকে বের করে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
Check the condition of a TMC panchayat pradhan lying drunk on floor inside his office. pic.twitter.com/wJ3I4MAHvA
— The Bong Head (@TheBongHead) June 12, 2026
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ চুরি থেকে লক্ষ টাকার বকেয়া! সংযোগ কাটা হল তৃণমূল কাউন্সিলর, প্রধানের বাড়ির
উল্লেখ্য, গত ২০২৪-এর পঞ্চায়েত ভোটে ঝুঁঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছিল রেখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তখনই প্রধান হয়েছিলেন রামেশ্বর হেমব্রম। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর সেরকম কোনো কাজেই তাঁকে দেখা যেত না। এমনকি পঞ্চায়েত অফিসেও তিনি নিত্যদিন আসতেন না। এবার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়া জেলার এক প্রশাসনিক আধিকারিক। যদিও প্রধানের দাবি, তিনি মদ্যপান করেননি।










