সহেলি মিত্র, কলকাতা: এবার সড়ক ব্যবস্থায় আসতে চলেছে বিরাট বদল। আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশ থেকে শিলিগুড়ি এবং শিলিগুড়ি থেকে উত্তরপ্রদেশ যাওয়া আরও সহজ হতে চলেছে। আসলে উত্তরপ্রদেশের গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আদলে বিহারেও এবার একটি দ্রুতগতির, ছয়-লেনের অত্যাধুনিক সড়ক নির্মিত হতে চলেছে। শীঘ্রই গোরক্ষপুর-শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ে (Gorakhpur-Siliguri Expressway) নির্মিত হবে। উল্লেখ্য যে, ৫১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গোরক্ষপুর -শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ের সিংহভাগই বিহারের মধ্যে দিয়ে যাবে। সবথেকে বড় কথা, এই এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হওয়ার জেরে গোরক্ষপুর থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার সময় কমে মাত্র ৬ ঘন্টা হয়ে যেতে পারে।
গোরক্ষপুর থেকে শিলিগুড়ি এবার মাত্র ৬ ঘন্টায়!
জানা গিয়েছে, ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হতে চলা এই এক্সপ্রেসওয়েটি উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গকে সংযুক্ত করবে। আনুমানিক ৩২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ করা হবে। গোরক্ষপুর-শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ে একটি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে, যেটিতে প্রাথমিকভাবে ৬টি লেন থাকবে এবং ভবিষ্যতে এটিকে ৮টি লেনে প্রশস্ত করা যেতে পারে।
কোন জেলাগুলি উপকৃত হবে?
জানা গিয়েছে, ৪১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি বিহারের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে হবে এবং এটি রাজ্যের আটটি জেলাকে সরাসরি সংযুক্ত করবে। এক্সপ্রেসওয়েটির পথ পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, শিবহর, সীতামারি, মধুবাণী, সুপাউল, আরারিয়া এবং কিষাণগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে যাবে। এই এক্সপ্রেসওয়েটি উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৮৪ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হবে এবং এর ফলে পূর্বাঞ্চল জেলাগুলি সরাসরি উপকৃত হবে। গোরক্ষপুরের জগদীশপুর থেকে শুরু হয়ে এটি বিহার সীমান্তে প্রবেশের আগে দেওরিয়া ও কুশীনগর জেলা অতিক্রম করবে।
যানবাহনের গতিবেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ১২০ কিমি
এরপর বিহার অতিক্রম করার পর, এক্সপ্রেসওয়েটি পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে শেষ হবে।এই এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। অন্যদিকে, গোরক্ষপুর থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথ আগে যেখানে ১৪-১৫ ঘণ্টা সময় নিত, সেখানে এখন মাত্র ছয় থেকে আট ঘণ্টায় তা অতিক্রম করা যাবে।
আরও পড়ুনঃ শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ল ট্রেন, কোন কোন রুটে? জানাল পূর্ব রেল
কাজ কতদূর এগিয়েছে?
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কাঁ কতদূর এগিয়েছে? সেক্ষেত্রে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের তিনটি জেলাতেই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, অপরদিকে বিহারের জেলাগুলিতেও ক্ষতিপূরণ ও অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI ) নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।










