সহেলি মিত্র, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) দেওয়ার ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চলতি মার্চ মাসেই প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। যদিও এসবের মাঝেই এক নয়া আশঙ্কায় ভুগতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মীরা। বিশেষ করে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা টাকাটা আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছেন সকলে। এই সংশয় নিয়েই এবার সকলে নতুন করে আন্দোলনে সামিল হতে চলেছেন। শুনে চমকে গেলে তো? কিন্তু এটাই সত্যি।
ডিএ নিয়ে ফের পথে নামছে শিক্ষক সমাজ
শিক্ষক সমাজের দাবি, রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের তরফে DA সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে সেখানে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলা নেই। যে কারণে তারা টাকা পাবেন কিনা সেই নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন সকলে। তাঁরা টাকা নাও পেতে পারেন, এই আশঙ্কা তাঁদের তাড়া করে বেরাচ্ছে। ফলে নতুন করে আন্দোলনে সামিল হতে চলেছেন তাঁরা বলে খবর।
এক শিক্ষক দাবি করেছেন, অর্থ দফতরের তরফে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার মতো স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের ২০১৮-এর এপ্রিল থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ কত, তা উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই হিসাব জানাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই যত সংশয় তৈরি হয়েছে সংশয়। তা হলে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন না তাঁরা? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
বিজ্ঞপ্তি জারি সরকারের
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নবান্ন রাজ্য কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার বকেয়া একাধিক ধাপে পরিশোধ করবে। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের এই বকেয়ার কথা রবিবার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সরকার জানিয়েছে মার ৪৮ মাসের বকেয়া আগে শোধ করা হবে। তারপরে বাকিটা কবে কী শোধ করা হবে তা পরে জানাবে সরকার।
আরও পড়ুনঃ আকাশ কালো করে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৫ জেলায় প্রবল বৃষ্টি! আজকের আবহাওয়া
সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে, সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া গণনা করা হবে। এই অর্থ দুটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে প্রথমটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি কর্তৃক মোট বকেয়ার চূড়ান্ত নির্ধারণের ওপর এই অর্থপ্রদান নির্ভরশীল থাকবে। এই বিষয়ে বড় মন্তব্য করেছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও মার্চের মধ্যে নির্ধারিত বকেয়া মিটিয়ে দিতেই হবে। সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে কোনও ভাবেই বিভাজন চলবে না। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে ধোঁয়াশা রেখে শাসকদলের ভোট বৈতরণী পেরোনোর কৌশল কোনওমতেই মেনে নেব না আমরা।”












