বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরে ধরে জুতো-ডিম কিছুই ছুড়তে বাকি রাখলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে স্থানীয়দের বেশ কয়েকজনকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামা ধরেও টানাটানি করতে দেখা গেল। এক কথায়, এলাকাবাসীর হাতে চরম নিগৃহীত হলেন তৃণমূল নেতা। আর তারপরেই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানালেন, সোনারপুরের এই ঘটনাকে সামনে রেখে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হবেন তিনি।
পুলিশের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ অভিষেকের
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে চোর চোর স্লোগান শোনার পাশাপাশি একপ্রকার ঘার ধাক্কা খেয়ে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হাজির হন অভিষেক। সেখান থেকেই নিজের ফেসবুক লাইভ এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক প্রথমেই বলেন, মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে আসার আগে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। মেইল করা হয়েছিল। তারপরেও আসেনি পুলিশ।
অভিষেক বললেন, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছেড়া হয়, ছুড়ে মারা হয় জুতো। এমনকি তাঁর সাদা জামা পুরো ছিঁড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাঁকে বাঁচাতে কোনও ফোর্স আসেনি। তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “ওরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চায়। মেরে ফেলুক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা মাকে ছেড়ে যাবো না, যতক্ষণ না ফোর্স এসে উদ্ধার করবে ততক্ষণ এখানেই থাকবো।”
#WATCH | Sonarpur, West Bengal: TMC MP Abhishek Banerjee says, “…They wanted to kill me… The whole incident has been captured on camera. We will definitely let the high court know about this. We will also let the governor know about this… I will definitely move to court…” https://t.co/MIZUJSZi3y pic.twitter.com/LWBApD95oC
— ANI (@ANI) May 30, 2026
এদিন সোনারপুরের ঘটনা নিয়ে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন অভিষেক। সেই সাথে এমন ঘটনায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন তিনি। অভিষেক জানালেন, তিনি খুব শীঘ্রই আইনি পথে সুপ্রিম কোর্টে সবটা জানাবেন। প্রয়োজনে নিজে পিটিশনার হিসেবে আবেদন করবেন। অভিষেকের কথায়, “শুধু হাইকোর্ট নয়, সুপ্রিম কোর্টেও যাব। প্রয়োজন হলে পিটিশানার হিসেবে নিজে আবেদন দাখিল করব। সংবিধান সেই অধিকার আমায় দিয়েছে।”
অবশ্যই পড়ুন: হঠাৎ এক লাফে বেড়ে গেল মুরগির মাংস এবং ডিমের দাম, চিন্তায় মধ্যবিত্ত!
প্রসঙ্গত, এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়ে টানা ঘন্টা দেড়েক মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর বাড়িতে থাকার পর শেষমেষ পুলিশ এবং বিরাট কেন্দ্রীয় বাহিনী একেবারে এসকর্ট করে তৃণমূল সাংসদকে নিরাপদে ওই বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। যদিও এই সময়েও পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে অভিষেককে তাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন অনেকেই। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা তা ভেস্তে দেন।










